মোবাইল-দিয়ে-টাকা-আয়

মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার ৬টি সহজ উপায়

আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ বিভিন্ন ভাবে ঘরে বসে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করছে। অনেকেই এখন মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করছে কোনো খরচ ছাড়াই। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে নানা ধরণের সুবিধা থাকায় ঘরে বসে অনলাইন ইনকাম (Online Income)-করা সহজ হয়ে উঠেছে। যারা মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করতে চান তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই স্মার্ট ফোন এর মাধ্যমে ফেসবুকে নানা ভাবে সময় নষ্ট করছে।

কেউ চাইলে স্মার্ট ফোন দিয়ে ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে বরং সেখান থেকে আয় রোজগার করতে পারে। এছাড়া মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার জন্য বিভিন্ন উপায় রয়েছে যেমন- ইউটিউব,ব্লগিং, অ্যাপস,ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি।

মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার সুবিধা

অনলাইনে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম (Money income with mobile)-করা সবচেয়ে ভালো সুবিধা হলো বড় অংকের কোনো বিনিয়োগ নেই। বর্তমানে ৫-৬ হাজার টাকার মধ্যে একটি স্মার্ট ফোন ক্রয় করা যায়। অন্যদিকে ল্যাপটপ/কম্পিউটার ক্রয় করার জন্য ২৫-৪০ হাজার টাকার মতো খরচ করতে হয়।

মোবাইল-দিয়ে-টাকা-আয়-করুন

এছাড়া মোবাইলে মানুষ অনেক সময় ব্যয় করে থাকে, আর এই সময়কে মোবাইল দিয়ে আয় করার উপযুক্ত সময় হিসেবে তৈরি করতে পারবেন। অনেকের আবার কম্পিউটার সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই। তাই মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করা আপনার জন্য সবচেয়ে বেস্ট।

মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার উপায়

অনলাইন থেকে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার অনেক উপায় পাবেন। কিন্তু আমি আজকে সেরা ৬টি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। আর এর মাধ্যমে আপনি সবচেয়ে সহজ ভাবে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

মোবাইল-দিয়ে-টাকা-আয়-করার-উপায়

অনেকে ভেবে থাকে মোবাইলে অনলাইনে আয় করা যায় না। আর এরজন্য তাঁরা অনেকটা বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। কিন্তু আপনি একটু চেষ্টা করলেই মোবাইল দিয়ে ইনকাম শুরু করতে পারেন।

  1. লেখালেখি করে আয় (Income by writing)
  2. ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় (Earnings from YouTube channel)
  3. লিংক শর্ট করে আয় (Earn by shortening the link)
  4. অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দিয়ে টাকা আয় (Earn money with Android app)
  5. ব্লগ সাইট থেকে টাকা আয় (Earn money from blog sites)
  6. ফেসবুক থেকে আয় (Earnings from Facebook)

১। লেখালেখি করে আয় করার উপায়

অনলাইনে লেখালেখি করে আয় করা সবার কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মোবাইলের মাধ্যমে আর্টিকেল তৈরি করে ওয়েবসাইটে শেয়ার করে অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন। অনলাইনে লেখালেখি করার আরেক নাম হচ্ছে ব্লগিং (Blogging)। আপনি হয়তো এই নামটি ইন্টারনেটে অনেকবার শোনেছে। মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার জন্য ব্লগিং একটি ভালো উপায়।

আর্টিকেল-লিখে-টাকা-আয়

ব্লগিং করে আয় করার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। আপনি যেকোনো ভাবে একটি ওয়েবসাইট খুলে নিতে পারেন মোবাইল দিয়ে। এছাড়া ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ডোমেইন-হোস্টিং ও থিম ক্রয় করতে হয়।

ভালো মানের একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে হলে আপনাকে প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। কিন্তু আপনার যদি এতো টাকা না থাকে তাহলে সম্পূর্ণ ফ্রি ওয়েবসাইট (Free Website)-তৈরি করতে পারেন।

আরো পড়ুন-

আপনি যেহেতু অনলাইনে প্রথমবার টাকা আয় করার জন্য ব্লগিং করতে চাচ্ছেন। তাই আপনার জন্য ফ্রি ওয়েবসাইট সবচেয়ে ভালো হবে। এর মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইট ও ব্লগিং সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা নিতে পারবেন, এবং পরবর্তি যেকোনো সময় ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করে আপনার ওয়েবসাইটের ডাটাগুলো ট্র্যান্সফার করে নিতে পারবেন।

আর্টিকেল লেখার উপায়

ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লেখার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হচ্ছে নিজের সৃজনশীল মেধাশক্তি ব্যবহার করা। মনে রাখবেন লেখালেখি করে আয় করার জন্য ওয়েবসাইটে কখনো কপি পোস্ট করা যাবে না।

আর্টিকেল-লেখার-উপায়

অনলাইনে কোনো স্থান থেকে আর্টিকেল কপি করে পোস্ট করলে আপনার ওয়েবসাইট কখনো র‍্যাংক হবে না। আর একটি ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া কোনো ইমেজ বা কনটেন্ট যদি কপি করেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর আসবে খুবই কম।

এছাড়া ইউনিক আর্টিকেল (Unique article)-লেখার জন্য আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিজিট করে টপিক সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। কিন্তু হুবহু কপি করে আপনার ওয়েবসাইটে বসিয়ে দেওয়া যাবে না।

আপনি যদি কোনো টপিক সম্পর্কে লিখতে না পারেন তাহলে অনলাইনে বেশি রিসার্চ করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার আউটনলেজ বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া অনলাইনে যত রিসার্চ করবেন আপনি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তত ধারণা নিতে পারবেন। আর এর মাধ্যমে আর্টিকেল লেখা আরো সহজ হয়ে যাবে।

ওয়েবসাইট কেন এসইও করতে হয়?

যারা ওয়েবসাইটের বিভিন্ন কনটেন্ট অনলাইনে পাবলিশ করতে চায় তাদের ওয়েবসাইট এসইও (SEO)-করা খুবই জরুরি। আপনি যদি ভালো মানের এসইও করতে পারেন তাহলে আপনার সাইটে ভিজিটর পাবেন অনেক।

অফপেজ-এসইও

একটি ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল। ভালো মানের আর্টিকেল লিখতে পারলে ওয়েবসাইট দ্রুত র‍্যাংক হবে।

এছাড়া প্রতিটি ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে পাওয়ার জন্য এসইও করতে হয়। সার্চ ইঞ্জিনের সাথে ওয়েবসাইট সংযুগ না করলে আপনার ওয়েবসাইট কেউ খুঁজে পাবে না। একমাত্র ডোমেইন বা আইপি এড্রেস জানা না থাকলে। তাই সবার কাছে ওয়েবসাইট প্রদর্শন করার জন্য সার্চ ইঞ্জিনে কানেক্ট করতে হবে। জনপ্রিয় কয়েকটি সার্চ ইঞ্জিন হলো- গুগল, বিং ও ডাকডাকগো ইত্যাদি।

কিভাবে লেখালেখি করে আয় করবেন?

একটি ওয়েবসাইটে ব্লগ পোস্ট পাবলিশ করে টাকা ইনকাম করার জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গুগল এডসেন্স (Google Adsense)। বর্তমানে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে ব্লগাররা।

লেখালেখি-করে-আয়

আপনার ওয়েবসাইটে যখন ভালো মানের ভিজিটর আসতে শুরু করবে তখন গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইটে যদি ভালো মানের ভিজিটর থাকে ও কোনো কপি আর্টিকেল না থাকলে দ্রুত গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভ পেয়ে যাবেন।

গুগল এডসেন্স আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানুর মাধ্যমে আপনাকে ডলার প্রদান করবে। আপনার সাইটে ভিজিটর বেশি থাকলে বিজ্ঞাপনে বেশি ক্লিক পড়বে ফলে আপনার ইনকাম ভালো হবে।

মনে রাখবেন কখনো নিজেই নিজের ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা যাবে না। যদি ক্লিক করেন তাহলে আপনার গুগল এডসেন্স একাউন্ট ব্লক হয়ে যেতে পারে, তাই শতর্ক থাকবেন। আর এভাবেই লেখালেখি করে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন।

২। ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয়

ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে শেয়ারিং করার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইন ইনকাম (Online Income)-করতে পারবেন। মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার জন্য ইউটিউব আপনার জন্য সহজ একটি উপায়। বর্তমানে বহু লোক ইউটিউবিং করে ভালো মানের টাকা ইনকাম করছে।

ইউটিউব-চ্যানেল-থেকে-ইনকাম

বিভিন্ন টপিক নিয়ে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করলে মানুষ বেশি পছন্দ করে। এছাড়া অনেকে শিক্ষামূলক ভিডিও বানাইয়ে ইউটিউবে শেয়ার করে এবং সবার কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

ইউটিউবে আয় করার জন্য সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো একটি জিমেইল একাউন্ট তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেল (YouTube channel)-তৈরি করা। আর ইউটিউব চ্যানেল খুলা খুবই সহজ কাজ। এরপর চ্যানেলটি সুন্দর করে কাস্টমাইজেশন করে নিবেন।

বিভিন্ন তথ্য দিয়ে চ্যানেলটি ভেরিফাই করার পর ভালো মানের ভিডিও আপলোড করা শুরু করে দিবেন। আপনার ভিডিও যত ভালো হবে মানুষ ভিউ করবে বেশি এবং বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করবে।

ইউটিউব ভিডিও তৈরি করার জন্য গুগল প্লে-স্টোরে অনেক অ্যাপস পাওয়া যায় যেগুলো দিয়ে মোবাইলের স্ক্রিন ভিডিও করা যায়। ভিডিওর মাধ্যে ভালো ভাবে কথা বলার চেষ্টা করবেন এবং আউট কথা বলার চেয়ে টপিক রিলেটেড কথা বলবেন। কারণ অনেকে ইউটিউব ভিডিও বড় করার জন্য উল্টা-পাল্টা কথা বলতে থাকে, আর অনেক ঘুরিয়ে পিছিয়ে কথা বলে। এরজন্য তাদের ভিডিওগুলো মানুষ দেখতে চায় না এবং বিরক্ত হয়ে পড়ে।

ইউটিউব-ভিডিও-তৈরি-করে-টাকা-আয়

তাই ভিডিও ছোট হলেও কোনো সমস্যা নেই কিন্তু ভিডিওর মধ্যে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন এবং হেল্পফুল ভিডিও (Helpful video)-বানাবেন। মনে রাখবেন একটি ইউটিউব চ্যানেল মানুষ তখনই সাবস্ক্রাইব করে যখন চ্যানেলটির ভিডিওগুলো সুন্দর হয় ও তথ্যবহুল হয়। মানুষকে বিভিন্ন ভাবে হেল্প করার জন্য ভিডিও তৈরি করার চেষ্টা করবেন কিন্তু টাকা কামানোর জন্য নয়।

অনেকে ভিডিও তৈরি করে থাকে টাকা ইনকাম করার জন্য। ফলে ভিডিও খারাপ হয় এবং মানুষ ভিডিও পছন্দ না করায় টাকাও ইনকাম করা সম্ভব হয় না। তাই মানুষকে সহযোগিতার করার জন্য ভিডিও তৈরি করবেন দেখবেন আপনার টাকা এমনইতেই আসতে থাকবে।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করবেন?

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গুগল এডসেন্স। অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা। আপনি চ্যানেলে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও ভিডিওতে ৪ হাজার ওয়াচটাইম নিয়ে আসতে পারলে গুগল এডসেন্স দিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন।

ইউটিউব-থেকে-আয়-করবেন-যেভাবে

তাই আমি আগেই বলেছি ভালো মানের ভিডিও বানানোর চেষ্টা করবেন। ইউটিউবের এই নীতিটি মানতে পারলে তাহলে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় (Earnings from YouTube)-করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্সের সাথে আপনার ইউটিউব চ্যানেল সংযোগ করার জন্য চ্যানেলের সেটিংস এ যেয়ে মনিটাইজেশন অন করতে হবে। মনিটাইজেশন অন না করলে আপনার চ্যানেলের ভিডিওর মধ্যে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে না। সুতরাং এভাবেই ইউটিউব থেকে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন।

৩। লিংক শর্ট করে আয়

মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার জন্য এটি দারুন একটি উপায়। খুব সহজ ভাবে যেকোনো লিংক কপি করে লিংক শর্টার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লিংক শর্ট করে নিবেন। আর শর্ট করা লিংকটি যেকোনো জায়গায় শেয়ার করে আপনি টাকা ইনকাম (Money income)-করতে পারবেন।

যখন আপনি কোনো লিংক শর্ট করবেন তখন শর্ট করা লিংকের মধ্যে বিজ্ঞাপন যুক্ত হবে ফলে কেউ সেই শর্ট করা লিংকে ক্লিক করলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে, ফলে আপনার ইনকাম জেনারেট হবে।

লিংক-শর্ট-করে-আয়

অনলাইনে অনেক লিংক শর্টার ওয়েবসাইট রয়েছে যেমন- adf.ly, linkshrink.net, al.ly, shorte.st-ইত্যাদি। এই ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে ভিজিট করে অ্যাকাউন্ট খুলে নিবেন এবং যেকোনো ধরনের লিংক শর্ট করে আয় করতে পারবেন। আপনার তৈরি করা শর্ট লিংকের বিজ্ঞাপন মানুষ যত বেশি ভিউ করবে আপনার তত বেশি ইনকাম আসবে। মূলত প্রতি ১,০০০ ভিউতে ৫-১৫ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন।

এই শর্ট লিংকের মাধ্যমে বেশি ইনকাম করার জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও তথ্যবহুল লিংকগুলো শর্ট করে বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করতে পারেন। এর ফলে মানুষ বেশি ভিউ করবে আর আপনার ইনকাম হবে অনেক। আপনি ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে বা যেখানে ভিজিটর বেশি সেইসব জায়গায় শেয়ার করতে পারেন। সুতরাং মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার জন্য এই পদ্ধতিটি খুব মজাদার।

৪। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দিয়ে টাকা আয়

বর্তমানে স্মার্ট ফোন ব্যবহার করলে বিভিন্ন দিক থেকে লাভবান হওয়া যায়। এক দিকে যেমন নিজের শখ পূরণ হয় অন্যদিকে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করাও যায়। গুগল প্লে-স্টোরে এমন কিছু ইনকাম এপস পাওয়া যায় যেগুলো দিয়ে বিভিন্ন ভাবে টাকা আয় করা যায়। কিন্তু অ্যাপস দিয়ে টাকা আয় (Make money with apps)-করা একটু কষ্টের ব্যাপার। আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন কিন্তু সময় বেশি খরচ হবে।

অন্যদিকে আপনি যেমন বিভিন্ন ভাবে মোবাইলে সময় নষ্ট করতেন সেই দিক থেকে অ্যাপের মাধ্যমে টাকা আয় করার জন্য সময় ব্যয় করাই ভালো। এভাবে আপনার সময়টাও কাটবে আবার কিছু টাকাও ইনকাম হবে।

মোবাইল-দিয়ে-টাকা-আয়-বিকাশে-পেমেন্ট

এন্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার জন্য গুগল প্লে-স্টোর থেকে এই অ্যাপস গুলো ডাউনলোড করতে পারেন- True Balance, mCent, TaskBucks, PocketMoney, Amulyam-ইত্যাদি।

এই অ্যাপস গুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন রকম ইনকাম এপস পাবেন চাইলে সেগুলো থেকে আর্নিং করতে পারবেন। সময়ের পরিবর্তে এই অ্যাপস গুলো ইনকাম করার সুযোগ নাও দিতে পারে। তাই এর জন্য আমাদের উপর খুব প্রকাশ করতে পারবেন না।

আরো পড়ুন-

অ্যান্ড্রয়েড এপস দিয়ে টাকা ইনকাম করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো রেফারেন্স। শুধু তাই নয় বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখা, এপস ডাউনলোড করা ইত্যাদি থাকতে পারে। রেফারেন্স হলো আপনার ইনকাম অ্যাপের মধ্যে একাউন্ট খুলার পর একটা রেফারেন্স লিংক দেওয়া হবে, যেটা দিয়ে কেউ অ্যাপস ডাউনলোড করে একাউন্ট তৈরি করে টাকা ইনকাম করলে আপনিও সেখান থাকে টাকা পাবেন।

আপনি একটি ইনকাম এপস ডাউনলোড করে একাউন্ট খুলে বন্ধুদের সাথে রেফারেন্স লিংক শেয়ার করতে পারেন। তারা যদি ইনকাম করে তাহলে আপনারও ইনকাম হবে।

এন্ড্রয়েড মোবাইলের ইনকাম এপসগুলো বিভিন্ন ভাবে টাকা পেমেন্ট করে থাকে। কোনো অ্যাপস রিচার্জ করে টাকা দেয় আবার কোনো অ্যাপস ব্যাংকের মাধ্যমে বা বিকাশে পেমেন্ট করে থাকে। অন্যদিকে কিছু অ্যাপস রয়েছে যেগুলো ভুয়া কোনো টাকা দেয় না আর অনেক সময় নষ্ট করতে হয়।

এন্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করাটা আপনার জন্য বেশি ভালো হবে বলে আমি মনে করি না। এটার মাধ্যমে আপনার প্রচুর সময় নষ্ট হবে আর বেশি টাকাও ইনকাম করতে পারবেন না। তাই আপনি আমার অন্যান্য আইডিয়াগুলো বেঁছে নিতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস দিয়ে টাকা আয় করার উপরন অনেক ইন্টারেস্টেড থাকেন তাহলে করতে পারেন কোনো সমস্যা নেই।

৫। ব্লগ সাইট থেকে টাকা আয়

অনলাইনে বাংলাদেশে অনেক ব্লগ সাইট রয়েছে যেগুলোর মধ্যে লেখালেখি করে আয় (Income by writing)-করতে পারবেন। তাঁরা আপনি যদি ইংরেজি ভালো পারেন তাহলে ইংলিশ ব্লগ সাইটগুলোতে লেখালেখি করতে পারেন।

বাংলা-ব্লগ-সাইট-থেকে-টাকা-আয়

যারা ওয়েবসাইট সম্পর্কে ভালো জানে না বা ওয়েবসাইট খুলতে পারবে না তাঁরা অন্য ওয়েবসাইটে লেখালেখি করে আয় করতে পারবেন। বিভিন্ন ব্লগ ওয়েবসাইট এই সুবিধাটি দিয়ে থাকে তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত পোস্ট করার জন্য ও ভিজিটর বাড়ানোর জন্য।

আপনি তাদের এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বাংলা ব্লগ সাইট থেকে আয় করতে পারবেন। আর এর মাধ্যমে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন। বর্তমানে যারা লেখালেখি করতে ভালোবাসে বা অবশর সময় পার করে তাদের জন্য এই কাজটি বেশ চাহিদাসম্পন্ন। ইন্টারনেটে অনেক বাংলা ওয়েবসাইট রয়েছে যারা নতুন ব্লগারদের লেখালেখি করার সুযোগ দেয় আর এর বিনিময় তাঁরা অর্থ প্রদান করে থাকে।

বাংলা সাইট থেকে আয় করার কয়েকটি ওয়েবসাইট যেমন- hoicoibangla.com, somewhereinblog.net-ইত্যাদি। এই সাইটগুলো থেকে আয় করার জন্য সাইটে ভিজিট করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। কিন্তু এই সাইটগুলো সব সময় রেজিস্ট্রেশন করা চালু রাখে না। বিভিন্ন সময় আর্টিকেল রাইটার প্রয়োজন হলে তাঁরা চালু করে। এরজন্য তাদের ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ড কিছু দিন পর পর চেক করে দেখতে পারেন। কারণ আর্টিকেল রাইটার প্রয়োজন হলে নোটিশ বোর্ডে সব জানিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশী-সাইট-থেকে-আয়

আপনি যত ভালো মানের আর্টিকেল পাবলিশ করতে পারবেন আপনার ইনকাম তত বেশি হবে। কিন্তু কখনো কোনো আর্টিকেল কপি করে পাবলিশ করবেন না। যদি করেন তাহলে ওয়েবসাইটের মালিক আপনাকে ব্যান করে দিতে পারে।

আপনার আর্টিকেলের ভিউর উপর ডিপেন্ড করে টাকা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সব সাইটের মালিক এভাবে টাকা নাও দিতে পারে। আর আপনার ইনকাম করা টাকা তাঁরা বিভিন্ন ভাবে পেমেন্ট করে পারেন যেমন বিকাশ, অনলাইন ব্যাংক বা অন্যকোনো মাধ্যমে। সুতরাং এভাবে অন্যের ওয়েবসাইটে লেখালেখি করে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় (Money income with mobile)-করতে পারেন।

৬। ফেসবুক থেকে আয়

যারা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে থাকে তাঁরা সবাই হয়তো ফেসবুক সম্পর্কে খুব ভালো ভাবেই জানে। এটা একটি সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক, যেখানে একজন আরেকজনের সাথে খুব সহজেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যোগাযোগ করতে পারছে।

সুতরাং ফেসবুক নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু ফেসবুক সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন সময় আপডেট করছে। তাই ফেসবুক ইউজারদের জন্য রয়েছে সু-খবর। সম্প্রতি ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম (Money income from Facebook)-করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল-দিয়ে-টাকা-আয়-করার-পদ্ধতি

ইউটিউব বা ওয়েবসাইটের মতো এখন ফেসবুকেও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা যাবে। ফেসবুকে টাকা আয় করার জন্য আপনি একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে ফেলতে পারেন। আপনার পেজে নিয়মিত বিভিন্ন রকম পোস্ট করে ফলোয়ার বাড়িয়ে নিন। আপনার ফেসবুক পেজের ফলোয়ার যদি ১,০০০ হয় তাহলে ফেসবুক মনিটাইজেশনের জন্য এপ্লাই করতে পারেন।

এছাড়া আরো কিছু দিক নির্দেশনা মেনে নিতে হবে যেমন- ৬০ দিনে ১৫ হাজার মানুষের কাছে পোস্ট রিচ হওয়া, ১ লক্ষ ৮০ হাজার মিনিট ভিডিও ভিউ হওয়া ইত্যাদি। সময়ের সাথে এই নির্দেশনাগুলো পরিবর্তন হতে পারে। আপনি যদি ফেসবুক থেকে আয় করার বিভিন্ন নিয়মাবলী সম্পর্কে আরো জানতে চান তাহলে ফেসবুক ব্লগ পোস্ট পড়ে দেখতে পারেন।

ফেসবুক থেকে আয় করার জন্য আরো বিভিন্ন উপায় রয়েছে চাইলে সেগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ফেসবুকে পেজ তৈরি করে অনেক লাইক ও ফলোয়ার বাড়িয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। সুতরাং এভাবে আপনি ফেসবুকে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করতে পারেন।

উপসংহার

এখানে আমি মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার ৬টি উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। আপনি চাইলে এই উপায়গুলো ছাড়াও অন্যান মাধ্যমে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করতে পারেন। কিন্তু এই ৬টি আইডিয়া থেকে যে পদ্ধতিটি ভালো লাগে সেটাই ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন শুরুতেই টাকা ইনকাম করার আশা করবেন না। আগে অনলাইনে সবার কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে হবে। আর্টিকেলটি ভালো মনে হলে সবার কাছে শেয়ার করতে পারেন।

Leave a Comment