ব্লগিং-করে-আয়

ব্লগ কি? কিভাবে অনলাইনে ব্লগিং করে টাকা আয় করবেন?

বাংলা লিখে ব্লগিং করে কিভাবে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করা যায় সেটা আজ আপনাদের জানাব। ব্লগিং করে টাকা আয় করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে গুগল এডসেন্স। ব্লগিং হচ্ছে লেখালেখি করা যার মাধ্যমে বাড়িতে বসে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যারা লিখতে পছন্দ করেন তাদের কাছে ব্লগিং করে টাকা আয় করা কোনো কঠিন কাজ নয়। বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন উপায় অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করে থাকে।

কিন্তু সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি যেটি সেটা হলো ব্লগ তৈরি করে আয় করা। কারণ আপনার মনের ভাষা ডায়েরিতে না লিখে ওয়েবসাইটে লিখলেই আয় করা যাবে। পূর্বে বাংলাদেশ থেকে ওয়েবসাইটে বাংলা লিখে আয় করা যেতো না। কিন্তু বর্তমানে গুগল বাংলা বোঝার কারনে এখন খুব সহজেই বাংলা ভাষায় আর্টিকেল লিখে হাজার হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হচ্ছে।

আমাদের দেশে টাকার মান কম থাকার কারনে গুগল এডসেন্সের মাধমে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে যাদের ওয়েবসাইটে ভিজিটর বেশি হয়ে যায় তাঁরা মাসে কয়েক লক্ষ টাকা ইনকাম করে থাকে।

যে দেশগুলোতে টাকার মান বেশি সেইসব দেশে ব্লগিং করে মাসে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। হ্যাঁ! আপনিও তাদের মতো ব্লগিং করে টাকা আয় করতে পারবেন কিন্তু এরজন্য প্রয়োজন ইংরেজিতে আর্টিকেল লেখা।

যেহেতু ইংরেজি ভাষা একটি জনপ্রিয় ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ তাই ইংরেজিতে আর্টিকেল লিখতে পারলে বিভিন্ন দেশ থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর এসে সাইটের বিজ্ঞানে ক্লিক করলে বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি টাকা ইনকাম হবে।

সুতরাং আপনি যে ভাষা ভালো পারেন সে ভাষায় আর্টিকেল লিখতে পারেন কোনো সমস্যা নেই। আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশি ভিজিটর আসবে আপনার ইনকাম ততই বেশি হবে। এক্ষেত্রে আপনার ভিজিটরগুলো যদি বিভিন্ন দেশ থেকে এসে থাকে তাহলে বেশি ইনকাম হওয়ার সুযোগ থাকবে। তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই কিভাবে ব্লগিং করে টাকা আয় করা যায়।

ব্লগ কি (What is blog)?

what-is-blog-in-bangla

ব্লগিং করে টাকা আয় করার জন্য আপনার ব্লগ সম্পর্কে জানা উচিৎ। ইউকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ব্লগ শব্দটি এসেছে ইংরেজি (Blog)-থেকে। আর ইংরেজি এই (Blog)-শব্দটি এসছে (Weblog)-থেকে।

অনলাইনে লেখালেখি করাই হচ্ছে ব্লগ। এক সময় মানুষ নিজের কথাগুলো ডায়েরীর মধ্যে লিখে প্রকাশ করত। কিন্তু বর্তমান যুগে মানুষ অনলাইনে লেখালেখি করে, আর এর মাধ্যমে অনলাইন থেকে ইনকামও করা যায়।

মানুষ তার অবশর সময়টা কাটানোর জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে থাকে। কিন্তু আপনি চাইলে সেই অবশর সময়টা কাটাতে পারেন আয় রোজগার করার মাধ্যমে। সুতরাং অবশর সময় আয় রোজগার করার জন্য আপনি ব্লগিং করতে পারেন।

ব্লগিং করে টাকা আয় করার জন্য আপনি বাংলা ভাষা ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা নেই। কারণ এখন অনেক বাংলাদেশী ব্লগার রয়েছে যারা বাংলা লিখে আয় করছে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

ব্লগিং করার জন্য কি কি লাগবে?

আপনি যে আর্টিকেলগুলো মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে চান তার জন্য একটি জায়গার প্রয়োজন হবে। আর সেটা হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট। মানুষ যেমন তাদের পণ্য বিক্রয় করার জন্য হাটে-বাজারে যায় ঠিক তেমনি আর্টিকেল হচ্ছে আপনার পণ্য যেটা ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবেন এবং মানুষ সেটা থেকে সেবা নিবে। এখন আপনি ভাবতে পারেন ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করবেন।

আপনার কাছে যদি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কোনো টাকা পয়সা না থাকে তাহলে এখানে ক্লিক করে কয়েকটি ফ্রি ওয়েবসাইট বিল্ডার সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। যেগুলোর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বিনামূল্যে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। এটা শুধু যাদের কাছে টাকা পয়সা নেই তাদের জন্য।

আর যাদের ওয়েবসাইট তৈরি করার মতো সামর্থ আছে তারা টাকা দিয়ে ডোমেইন হোস্টিং কিনে ওয়েবসাইট তৈরী করবেন। ব্লগিং করে টাকা আয় করার জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। আপনার ওয়েবসাইট মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য বা ওয়েবসাইট সবার কাছে পরিচিতি করার জন্য SEO-করা প্রয়োজন।

আপনি যদি বেসিক এসইও শিখে নিতে পারেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের পোস্টগুলো সবার কাছে শো করবে। সবসময় এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করবেন। এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

১। জিমেইল একাউন্ট

অনলাইনে আয় করার জন্য জিমেইল একাউন্ট তৈরি করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিল্যান্সিং থেকে শুরু করে ইউটিউব থেকে আয়, ওয়েবসাইট থেকে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় ও আরো বিভিন্ন ভাবে অনলাইন ইনকাম করার জন্য জিমেইল একাউন্ট প্রয়োজন হবে। ব্লগিং করে টাকা আয় করার সময় আপনার জিমেইলে বিভিন্ন আপডেট জানাতে থাকবে আপনার ওয়েবসাইটের সার্ভার মালিকরা।

অনেক সময় ওয়েবসাইটে সমস্যা দেখা দেয় তখন আপনি জিমেইল একাউন্টে প্রবেশ করলে বোঝতে পারবেন কি কারনে ওয়েবসাইটে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ব্লগিং করে টাকা আয় করার জন্য গুগল এডসেন্স একাউন্ট জিমেইল দিয়ে খুলতে হবে। আপনি যদি জিমেইল একাউন্ট না খুলতে পারেন তাহলে এখানে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন।

২। ডোমেইন কি (What is Domain)?

অনলাইনে প্রতিটি ওয়েবসাইটের একটি আইপি এড্রেস রয়েছে যেটা সংখ্যা ধারা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু আমাদের সবার কাছে ডোমেইনের এই সংখ্যাবাচক আইপি এড্রেস মনে রাখা সম্ভব না।

তাই একটি ওয়েবসাইটের আইপি এড্রেসের পরিবর্তে যে নাম দেওয়া হয় থাকে ডোমেইন নাম বলা হয়। অর্থাৎ কোনো ওয়েবসাইটের নামকেই মূলত ডোমেইন বলা হয়। আর আপনি হয়তো বিভিন্ন সাইটের ডোমেইন নামের শেষে .Com, .Org এবং .Net ইত্যাদি দেখতে পান। কিন্তু এগুলো হচ্ছে এক একটা এক্সটেনশন যেটা প্রতিটি ডোমেইন নামের শেষে থাকে।

অনলাইনে বিভিন্ন ধরণের এক্সটেনশন রয়েছে যেগুলো যেকোনো একটি আপনি ডোমেইন নামের সাথে যুক্ত করতে পারবেন। আপনি যে নিশ নিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন সেটার সাথে সম্পর্কিত রেখে একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন করবেন।

এতে আপনার ওয়েবসাইট দেখতে সুন্দর লাগবে এবং ওয়েবসাইটের কনটেন্টের সাথে সাইটের একটা মিল থাকবে। সুতরাং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লেখালেখি করে আয় রোজগার করার জন্য একটি সুন্দর ডোমেইন নাম নির্বাচন করতে হবে।

৩। হোস্টিং কি (What is hosting)?

সহজ ভাষায় হোস্টিং (Hosting)-হলো কোনো ওয়েবসাইটের কনটেন্ট রাখার জন্য যে জায়গার প্রয়োজন হয় থাকে হোস্টিং বা ওয়েব সার্ভার বলে। একটি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কনটেন্ট থাকতে তার জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন হয়। মূলত তাই ওয়েব হোস্টিং এর প্রয়োজন। হোস্টিং ছাড়া আপনি ওয়েবসাইটের ভিতর কোনো প্রকার ছবি, গান, ভিডিও ও আর্টিকেল ইত্যাদি আপলোড করতে পারবেন না।

আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট খুলার জন্য ডোমেইন ক্রয় করবেন তখন সেটা একটা সার্ভারের মধ্যে রাখতে হয়। আর সেটাই হচ্ছে ওয়েব সার্ভার বা ওয়েব হোস্টিং।

হোস্টিং বিভিন্ন প্রকার হতে পারে যেমনঃ ভিপিএস হোস্টিং (Vps Hosting), শেয়ারড হোস্টিং (Shared Hosting), ডেডিকেটেড হোস্টিং (Dedicated Hosting), রিসেলার হোস্টিং (Reseller Hosting)-ইত্যাদি। এই হোস্টিংগুলো সাধারণত প্রিমিয়াম হয়ে থাকে।

আপনি চাইলে অনলাইন থেকে বিভিন্ন ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন। যেটা আপনার জন্য বেশি ভালো হবে না। কারণ ফ্রি ওয়েব সার্ভারগুলো তেমন ভালো সার্ভিস দেয় না। আপনার যদি টাকা না থাকে বা ওয়েবসাইট সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্য ওয়েবসাইট খুলতে চান তাহলে এই ফ্রি ওয়েব হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন।

৪। ফ্রি/প্রিমিয়াম থিম

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য থিমের প্রয়োজন হয়। আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস থিম লাগবে। যেগুলো আপনি ওয়ার্ডপ্রেস থেকে ফ্রি ব্যবহার করতে পারবেন।

কিন্তু আপনার সবচেয়ে ভালো হবে যদি ওয়ার্ডপ্রেস প্রিমিয়াম থিম কিনে নিতে পারেন। কারণ প্রিমিয়াম থিমে সার্ভিস ভালো দেয় এবং ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি পাওয়া যায়। ফ্রি থিম ব্যবহার করলে আপনার আপনার ওয়াবসাইটের স্পিড একটু কম থাকতে পারে।

সুতরাং আপনার যদি থিম কেনার সামর্থ না থাকে তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস থেকে ফ্রি থিম ব্যবহার করতে পারেন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আপনি কখনো ক্র্যাক বা নাল থিম ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এগুলোর মধ্যে ভাইরাস থাকে যা আপনার ওয়েবসাইটের সকল তথ্য হ্যাক হয়ে যেতে পারে।

বেসিক এসইও (Basic SEO)

আপনি যদি ব্লগিং করে অনলাইন ইনকাম করতে চান তাহলে বেসিক এসইও সম্পর্কে জানতে হবে। একটি ওয়েবসাইট প্রতিযুগিতার বাজারে টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ভাবে আকর্ষনীয় করা হয়। আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করার পর সবার কাছে পৌছানোর জন্য এসইও করতে হবে।

what-is-seo

এসইও (SEO)-না করলে ওয়েবসাইটের কনটেন্টগুলো সবার কাছে পৌঁছাবে না। এর ফলে আপনার ভিজিটর কম আসবে ফলে আপনি লেখালেখি করে ইনকাম করতে পারবেন না।

এসইও এর ফুল মিনিং হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। সারা বিশ্বে কতগুলো জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে তার মধ্যমে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলো গুগল সার্চ ইঞ্জিন। এছাড়া আরো অনেক সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে যেমনঃ ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিন, বিং সার্চ ইঞ্জিন ও ইয়ান্ডেক্স সার্চ ইঞ্জিন।

এই সার্চ ইঞ্জিনগুলোর মধ্যে আপনার ওয়েবসাইট যেন সবার কাছে শো করে তার জন্য এসইও করতে হবে। অর্থাৎ ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের সাথে যুক্ত করতে হবে। আপনি অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের সাথে ওয়েবসাইট যুক্ত না করলেও গুগল সার্চ ইঞ্জিনের সাথে অবশ্যই করতে হবে। কারণ বেশিরভাগ মানুষ গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে থাকে।

এসইও করলেও ওয়েবসাইট র‍্যাংক হয় না কেন?

আমরা সবাই জানি, লেখালেখি করা মানুষের একটি বিশেষ গুণ যা সবাই পারে না। লেখালেখি করতে হলে মানুষের সৃজনশীল মেধাশক্তি কাজে লাগাতে হয়। যাদের ক্রিয়েটিভ নলেজ ভালো তারা ভালো মানের ইউনিক আর্টিকেল লিখতে পারবে।

এছাড়া যারা আর্টিকেল লিখতে পারবে না ধারণা করছেন তারদের ধারণা সম্পূর্ণই ভুল। আপনি চেষ্টা করতে থাকলে এক সময় আপনি খুব সহজেই আর্টিকেল লিখতে পারবেন। এর জন্য আপনার ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে।

যে কারনে অনেকের ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক হয় না সেটা হলো কপি আর্টিকেল বা আর্টিকেলটি এসইও ফ্রেন্ডলি না হওয়ায়। কখনো ওয়েবসাইটের মধ্যে কপি করা কোনো আর্টিকেল পোস্ট করার চেষ্টা করবেন না। কারন কপি করা আর্টিকেল কখনোই সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক হবে না।

অন্যদিকে কপি করা জিনিসটা গুগল প্রাধান্য দেয় না। এছাড়া কপি করা সাইবার আইনের মধ্যে পরে। এটা করা মানে জালিয়াতি করা। তাই কপি করা থেকে বিরত থাকবেন। আপনি যা পারেন তাই লিখবেন তবুও অন্যের লেখা পোস্ট নকল করার চেষ্টা করবেন না।

একটি ওয়েবসাইট র‍্যাংক করার জন্য প্রথম দিকে একটু পরিশ্রম করলেও পরবর্তিতে একটা সময় ওয়েবসাইট ভালোভাবে র‍্যাংক হয়ে যায়। যার ফলে তখন এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল না লিখলেও সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে আর্টিকেলটি র‍্যাংক হয়ে যায়।

কিভাবে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনবেন?

শুধু এসইও (SEO)-করেই ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে আসা যায় না। বরং আরো বিভিন্ন মাধ্যমে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনা যায়। আপনি চাইলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু এর জন্য এসইও বাদ দেওয়া যাবে না। এসইও এর পাশাপাশি আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ওয়েবসাইটে ভিজিট আনার চেষ্টা করতে পারেন।

how-to-make-money-seo

যেমন ধরণের ফেসবুকে একটি বিজনেস পেজ খুলে অনেক লাইক নিয়ে আসতে পারেন। এবং আপনার ওয়েবসাইটের পোস্টগুলো সেই বিজনেস পেজে শেয়ার করবেন। এতে ফেসবুক পেজ থেকে আপনার সাইটে অনেক ভিজিটর আসবে। ফেসবুক ছাড়াও আপনি টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদির মাধ্যমে ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট খুলার সুবিধা

অনলাইনে ওয়েবসাইট খুলার জন্য নানা ধরণের ওয়েব বিল্ডার রয়েছে। কিছু ওয়েব বিল্ডার রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে বিনামূল্যে ফ্রি ওয়েবসাইট খুলা যায়। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বিল্ডার হচ্ছে WordPress.Org। এই ওয়ার্ডপ্রেসের আগে Blogger.com-ছিলো বেশ জনপ্রিয় যেটা গুগল নিয়ন্ত্রণ করে থাকে অর্থাৎ গুগলের একটি পণ্য।

লেখালেখি-করে-আয়-করার-ওয়েবসাইট

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে সারা বিশ্বের কয়েক লক্ষ ওয়েবসাইট খুলা হয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট খুলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের ফ্রি থিম ও প্লাগইন পাওয়া যায়। যেগুলো দিয়ে একটি ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ গেট আপ চ্যাঞ্জ করে দেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইটকে খুব সুন্দরভাবে ডিজাইন করতে পারবেন।

শুধু তাই নয় ওয়ার্ডপ্রেসে সুন্দর একটি ড্যাশবোর্ড রয়েছে যেটা দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট খুব ভালোভাবে কন্ট্রোল করতে পারবেন। ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগইনগুলো দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট সিকিউর করা সম্ভব। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইট বিভিন্ন হ্যাকারের হাত থেকে বাঁচানো যাবে।

আপনি এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল পোস্ট করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসের বিভিন্ন প্লাগইন আপনাকে সাহায্য করবে। আপনি খুব সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন দিয়ে ওয়েবসাইট এসইও করতে পারবেন। আশা করি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব বিল্ডারটি আপনাকে আকৃষ্ট করবে।

কিভাবে ব্লগার হওয়া যায় (How to become a blogger)?

একজন ব্লগার হওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। আমি এখানে আপনাকে কয়েকটি উপায় বলব যেগুলো মেনে চললে আপনি একজন প্রফেশনাল মানের ব্লগার হয়ে যেতে পারেন।

কিভাবে-ব্লগার-হওয়া-যায়

প্রতিটা ব্লগারের জন্য প্রয়োজন আউট নলেজ যা আপনার না থাকলে অর্জন করে নিতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেই একজন ভালো মানের ব্লগার হওয়ার জন্য কি কি করতে হবে।

১। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়া

একজন ভালো মানের ব্লগার হওয়ার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়া উচিৎ। কারণ যাদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে নলেজ কম বা আউট নলেজের অভাব রেয়েছে তাঁরা অন্যদের ব্লগ পোস্ট পড়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

এছাড়া তাঁরা কিভাবে আর্টিকেল লেখে এবং কেমন ভাষা ব্যবহার করে সেসব বিষয় আইডিয়া নিবেন। এতে আপনি তাদের মতো করে নিজের ওয়েবসাইটে দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

২। সৃজনশীল মেধাশক্তি অর্জন করতে হবে

কোনো বিষয়ের উপর সৃজনশীল মেধাশক্তি অর্জন করার জন্য পড়ার পাশাপাশি লেখালেখি করতে হবে। আপনি যদি লিখতে চেষ্টা করেন তাহলে আপনার মাথায় নতুন কিছু আসার চেষ্টা করবে।

কোনো ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়ে আবার নিজে একটু ইউনিকভাবে লেখার চেষ্টা করবেন এতে আপনি একসময় একজন প্রফেশনাল মানের ব্লগার হয়ে যাবেন। নিজের মাথার ব্রেইন একটু খাটালেই আপনি নতুন কিছু করে দেখাতে পারবেন। সুতরাং আপনি অন্যের পোস্ট পড়ার পাশাপাশি লেখালেখি করার চেষ্টা করবেন।

৩। ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে

ওয়েবসাইটে লেখালেখি করার সময় অনেকের বানান ঠিক থাকে না এবং বিভিন্ন ভাবে নিজের মনের ভাষা প্রকাশ করে থাকে। একটি আর্টিকেলের পরিবেশ সুন্দর করার জন্য প্রয়োজন ভাষা সুন্দর করা। এর জন্য আপনার সাধু ভাষা ব্যবহার করতে হবে বিষয়টা তা নয়।

আপনি যে ভাষাটাই ব্যবহার করেন না কেন ভাষাটি যেন আর্টিকেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ভালো মানের ওয়েব ব্লগারদের আর্টিকেলে যে ভাষাগুলো তাঁরা ব্যবহার করে তাদের মতো করে নিজেও চেষ্টা করবেন। সুতরাং আপনার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

কিভাবে ব্লগিং করে টাকা আয় করা যায় (How to make money by blogging)?

ব্লগ-তৈরি-করে-আয়

ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। ব্লগিং শুরু করার আগে ইনকাম করার চিন্তাভাবনা না রেখে আগে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার চেষ্টা করুন। কারণ আপনি যদি একবার সাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংকে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে আপনার ইনকাম সোর্স অভাব হবে না। ব্লগিং করে টাকা আয় রোজগার করার জন্য কয়েকটি উপায় নিচে আলোচনা করা হলোঃ

১। গুগল এডসেন্স

ব্লগিং করে টাকা আয় করার জন্য সবচেয়ে বেস্ট উপায় হচ্ছে গুগল এডসেন্স। আপনি ওয়েবসাইটে প্রতিদিন আর্টিকেল পোস্ট করে ভালো মানের ভিজিটর নিয়ে আসতে থাকুন। যখন আপনার সাইটে ভালো মানের ভিজিটর থাকবে তখন গুগল এডসেন্সের জন্য এপ্লাই করবেন।

আপনার ওয়েবসাইট যদি গুগলের শর্তগুলোর সাথে মিলে যায় তাহলে কয়েকদিনের মধ্যে তাঁরা গুগল এডসেন্স এপ্রোভ করে দিবে। যদি অ্যাপ্রোভ না করে তাহলে চিন্তার কোনো কারণ নেই। যে কারনে আপনার সাইট এপ্লাই হয়নি সেটা গুগল ইমেইল করে পাঠিয়ে দিবে। এবং সমস্যাটি সমাধান করে আপনি পুনরায় আবার এপ্লাই করার সুযোগ পাবেন।

২। স্পন্সর

আপনি যদি ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখে ভালো মানের ভিজিটর আনতে পারেন তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি আপনার সাইটে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য অফার করবে। আপনি চাইলে তাদের অফারটি গ্রহণ করতে পারেন। ওয়েবসাইটে স্পন্সর দেওয়ার আগে তাদের সাথে নিজের মতো করে একটা চুক্তি করে নিলে ভালো হবে। সুতরাং বিভিন্ন কোম্পানির স্পন্সরের মাধ্যমেও ব্লগিং করে টাকা আয় করতে পারবেন।

৩। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অনেক ব্লগার রয়েছে যারা গুগল এডসেন্স ছাড়াই মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে শুধু মাত্র অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে। আপনি অ্যাফিলিয়েট পণ্য নিয়ে আপনার ওয়াবসাইটে বিজ্ঞাপন হিসাবে সেট করে দিবেন। এতে যারাই আপনার ওয়েবসাইট থেকে সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করবে সেখান থেকে আপনি একটা ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। সুতরাং আপনি চাইলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও ব্লগিং করে টাকা আয় করতে পারেন।

সর্বশেষ,

ব্লগিং করে টাকা আয় করার জন্য আজ বিস্তারিত আলোচনা করেছি এখানে। ব্লগিং নিয়ে আপনার যদি কোনো মতামত থাকে তাহলে নির্ভয় আমাদের জানাতে পারেন। অবশর সময়কে অর্থে রূপান্তর করার জন্য ব্লগিং হচ্ছে সবচেয়ে বেস্ট উপায়।

বর্তমানে হাজার হাজার বেকার ছেলে-মেয়েরা ব্লগিং ও ইউটিউবিং করে অনলাইন ইনকাম করছে। আপনি চাইলে ব্লগিং ও ইউটিউবিং একসাথে চালিয়ে যেতে পারেন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এইসব কাজের পেছনে আপনার সময় দিতে হবে। আজ এ পর্যন্তই ধন্যবাদ সবাই ভালো থাকবেন!

3 thoughts on “ব্লগ কি? কিভাবে অনলাইনে ব্লগিং করে টাকা আয় করবেন?”

  1. ভালো কাস্টমার পাবো কিভাবে আমাদের সাইটে এড দিবে।

    Reply

Leave a Comment