ফ্রিল্যান্সিং-করে-আয়

ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করবেন?

আপনি কি ঘরে বসে টাকা ইনকাম করতে চান? তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করুন। ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা যায় মাসে কয়েক লক্ষ টাকা। অনলাইনে আয় রোজগার করার সবচেয়ে সহজ পথ হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করে আয় রোজগার করতে চান তাহলে আপনার সঠিক গাইডলাইন প্রয়োজন। সঠিক গাইডলাইন না থাকলে ফ্রিল্যান্সিং করে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন না। ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে কাজের দক্ষতা অর্জন করা।

আমাদের দেশে এখন ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার সঠিক পথ দেখাচ্ছে বিভিন্ন আইটি ফার্মগুলো। এই আইটি ফার্মগুলো বিভিন্ন ভাবে বেকার ছেলে-মেয়েদের সহযোগিতা করছে। সুতরাং আজ এই আর্টিকেলের মধ্যে জানতে পারবেন কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা যায়? এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার বিভিন্ন তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য আপনার ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে ধারনা নেওয়া উচিৎ। তাই আমরা সর্বপ্রথম ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করব। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনার বেশিরভাগ সময় অনলাইনে পার করতে হবে। কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অনলাইনে বেশি বেশি রিসার্চ করতে হবে আর এক্টিভ থাকতে হবে। সুতরাং চলুন আমরা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জেনে নেই।

ফ্রিল্যান্সিং কি (What is freelancing)?

উকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ফ্রিলান্সিং (Freelancing)-একটি ইংরেজি শব্দ যার বাংলা অর্থ মুক্তপেশা। ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে? আপনি হয়ো জানেন অনলাইনে আয় করাই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। কিন্তু আসলে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করে?

ফ্রিল্যান্সিং-কি

ফ্রিল্যান্সিং অফলাইনেও করা যায় কারণ ফ্রিল্যান্সিং এর ব্যাখ্যা হলো- কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে মুক্ত বা স্বাধীনভাবে কাজ করাই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। যারা ফ্রিল্যান্সীং করে তাদেরকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার (Freelancer)-বা মুক্তপেশাজীবী।

বর্তমানে মানুষ স্বাধীনতাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। যার ফলে ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি অনেকেই করে থাকে। আর এই ফ্রিল্যান্সিং কাজগুলো মানুষ বেশিরভাগ অনলাইনে সম্পন্ন করে থাকে। এরও কারণ আছে যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্তপেশা তারজন্য মানুষ বাহিরে না যেয়ে ঘরে বেসি অনলাইনে করে থাকে। আর এর জন্য পরিশ্রম কম হয় ফলে কাজ বেশি করতে পারে।

কেন ফ্রিল্যান্সিং করবেন?

অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি এরই মাধ্যে জেনে গেছেন ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন পেশা। নিজের মন মতো কাজ করার সুযোগ করে দেয় ফ্রিল্যান্সিং। চাকরির ক্ষেত্রে যেমন অন্যের কথা মতো কাজ করতে হয়। ঠিক তার বিপরীতে ফ্রিল্যান্সিং নিজের মতো করে অন্যের কাজ করা যায়।

চাকরির ক্ষেত্রে মানুষ নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী অফিসে যেয়ে থাকে এবং আবার বাসায় ফিরে আসে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে এই নিয়মটা নেই। আপনি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজ নিয়ে কতটা সময় নিয়ে কাজ ডেলিভারি করতে পারবেন সেটা সম্পূর্ণই আপনার উপর নির্ভর করে।

আপনি যদি কম সময়ের মধ্যে কাজ করে দিতে পারেন তাহলে ক্লায়েন্ট আপনাকে ভালো ফিডব্যাক দিতে পারে। এবং এটা ক্লায়েন্ট ধরে রাখার একটি সুযোগ। আপনি হয়তো জানেন আমাদের দেশের বেকারত্ব হার অনেক বেশি। তাই ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব হার অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য আগে সবাই ভাবতো কম্পিউটার লাইনে পড়াশোনা করতে হয়। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণই ভুল প্রমাণিত করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইটি সেন্টারগুলো। ফ্রিল্যান্সিং করার অন্যতম একটি সুবিধা হচ্ছে আপনি যেকোনো সাব্জেটের শিক্ষার্থী হয়েও কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবেন (How to learn freelancing)?

বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল হয়েগেছে। আপনি বিভিন্ন ভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারবেন। মনে রাখবেন ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে মোবাইলের চেয়ে কম্পিউটারের ভূমিকা অনেক বেশি। ফ্রিল্যান্সিং শিখতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটা হচ্ছে মনোবল অর্থাৎ শেখার আগ্রহ।

how-to-make-money-by-freelancing

ফ্রিল্যান্সিং শেখা নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তিতে পরে যায়। আসলে বিভ্রান্তিতে পরার কিছু নেই আপনি যেভাবে সহজ ও ভালো মনে করেন সেভাবেই শিখতে পারেন কোনো সমস্যা নেই। আসল কথা হচ্ছে কাজের দক্ষতা অর্জন করা। কারণ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেপ্লেসগুলোতে কাজের দক্ষতা নিয়ে অনেক প্রতিযোগিতা চলে।

আমাদের দেশে এখন বিভিন্ন আইটি ফার্ম রয়েছে যেখানে খুব সুন্দরভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার তৈরি করার সুযোগ করে দেয়। আপনি চাইলে যেকোনো একটি আইটি ফার্মে ভর্তি হয়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারেন।

আরো পড়ুন-

অনেক আইটি ফার্ম রয়েছে যারা কাজ শিখার পর স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন আইটি ফার্ম কাজ শেখার পর অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো কাজ ধরিয়ে দেয়। এতে আপনার ক্লায়েন্ট খোঁজার জন্য কোনো পরিশ্রম বা ক্লায়েন্টের জন্য অনলাইনে অপেক্ষা করতে হবে না।

যাদের বাড়ির আশেপাশে কোনো আইটি ফার্ম নেই তারদের জন্য বিভিন্ন আইটি ফার্ম অনলাইনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। তাঁরা অনলাইনে ভিডিও রেফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এছাড়া আপনার যদি অনলাইনে ভিডিও রেফারেন্সের মাধ্যমে কাজ শিখতে কোনো সমস্যা হয় তাহলে তাদের কাছ থেকে ডিভিডি ক্রয় করতে পারেন।

এক্ষেত্রে অনেক আইটি ফার্ম আছে যারা বাড়িতে ডিভিডি ডেলিভারি করে দেয়। আবার অনেকে তাদের কাছে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ডাউনলোড করে নিতে বলে। সুতরাং এভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজ সমূহ শিখতে পারেন। আর বাড়িতে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সারদের আয় কেমন?

অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য সবচেয়ে বেশি সময়কে প্রাধান্য দিতে হয়। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে “Time is money”। আপনি যদি এই কথাটিকে প্রাধান্য না দেন তাহলে শুধু ফ্রিল্যান্সিং নয় আপনি কোনো ক্ষেত্রেই আয় রোজগার করতে পারবেন না।

ফ্রিল্যান্সিং-আয়-কেমন

অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে হলে আপনার অবশ্যই সময়কে কাজে লাগাতে হবে। আপনি যত বেশি অনলাইনে কাজের সময় দিতে পারবেন তত বেশি টাকা পয়সা আয় করতে পারবেন।

আপনি হয়তো এখন বোঝে গেছেন ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট অংক নেই। তবে একটা হিসাব অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে প্রায় (৮০,০০০-১,২০,০০০) টাকা ইনকাম করা সম্ভব। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং কাজ শিখে অনলাইনে মার্কেটপ্লেসগুলোতে সময় না দেন তাহলে কোনো টাকা পয়সা ইনকাম করতে পারবেন না।

যারা ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার মধ্যমে ভালো সুযোগ করে নেয় তাঁরা ফ্রিল্যান্সিং ছাড়া আর কোনো কাজ করতে চায় না। যারা পার্ট টাইম চাকরি করার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে তাঁরা এক সময় চাকরি বাদ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসাবে বেঁছে নেয়।

প্রথম দিকে আপনার ক্লেয়েন্ট কম থাকার কারনে কাজের অর্ডার কম পাবেন। এতে আপনার ইনকাম কম হবে। কিন্তু এর জন্য আপনি যদি হাল ছেড়ে দেন তাহলে সবচেয়ে বড় ভুল করবেন।

কারণ ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে প্রথম দিকে কাজের অর্ডার কম হলেও একসময় আপনার কাজের কোনো অভাব হবে না। তখন আপনি কাজ করে শেষ করতে পারবেন না। সুতারং ভালো মানের ইনকামের জন্য আপনার একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাবেন কোথায়?

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস আছে যেগুলোর মধ্যে ক্লায়েন্ট কাজ সাবমিট করে থাকে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোর ধরণ ভিন্ন ভিন্ন টাইপের হতে পারে।

freelancing-job

কিছু ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রেয়েছে যেখান ফ্রিল্যান্সাররা কাজের সার্কুলার দিয়ে থাকে এবং ক্লায়েন্ট কাজটি পছন্দ করলে অর্ডার করে। আবার কিছু মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের কাজের সার্কুলার দিতে হয় না বরং ক্লায়েন্ট কাজের সার্কুলার দিয়ে থাকে এবং ফ্রিল্যান্সাররা তাদের সাথে যোগাযোগ করে।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাওয়ার জন্য সেরা কয়েকটি মার্কেটপ্লেস আছে যেমন- Upwork, PeoplePerHour, Fiverr, Freelancer, Guru, 99Designs, TopTal-এবং আরো অনেক কিছু। আপনি ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য এই মার্কেটেগুলোই যথেষ্ঠ। আপনি চাইলে এই মার্কেটপ্লেসগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন এখানে ক্লিক করে

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য নানা রকম কাজ রয়েছে। আপনি যদি কয়েকটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট ঘুরে দেখেন তাহলে বোঝতে পারবেন কত ধরণের কাজ আছে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য। এখন আপনি বলতে পারেন কোন কাজগুলো সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন।

মনে রাখবেন ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য যে কাজই আপনি শিখেন না কেন সেটার দক্ষতা দেখাতে হবে। আপনার কাজের কারিশমা দেখাতে হবে। কাজের ভালো কারিশমা দেখিয়ে ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করতে হবে। কাজের দক্ষতা না দেখাতে পারলে ক্লায়েন্ট আপনাকে দিয়ে কাজ করাতে চাইবে না।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় কাজ হলো- গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং ও এনিমেশন, আর্টিকেল রাইটিং ইত্যাদি। এছাড়া আপনি যে কাজ শিখতে ইচ্ছুক সেটা শিখতে নিতে পারেন কোনো সমস্যা নেই। কারণ ভালো কাজ শিখতে পারলে বা কাজ জানা থাকলে ক্লায়েন্ট আপনাকে দিয়ে কাজ করাবে।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য পোর্টফোলিও তৈরি করতে হয় কেন?

মানুষ সাধারণ চাকরির সার্কুলার পেলে তার যাবতীয় কাগজপত্র সাথে নিয়ে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়ে থাকে। এছাড়া যে কোম্পানি চাকরি দেয় তাঁরা বিভিন্ন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে এবং আউট কোনো দক্ষতা আছে কি না সেটা যাচাই করে থাকে।

ঠিক তেমনি ভাবে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার জন্য আপনার যাবতীয় দক্ষতা তাদের সামনে প্রদর্শন করতে হবে। আর এই কাজটি বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সাররা একটি পোর্টফলিও আকারে প্রদর্শন করে থাকে। মূলত তাই একটি পোর্টফলিও দরকার।

এখন আপনার কাছে প্রশ্ন জাগতে পারে কিভাবে পোর্টফলিও তৈরি করবো? মনে রাখবেন পোর্টফলিওর মাধ্যমে আপনার কাজের দক্ষতা যাচাই করা হবে। তাই চেষ্টা করবেন আপনার কাজের সবচেয়ে সেরা দক্ষতাগুলো পোর্টফলিওর মধ্যে প্রকাশ করবেন।

এছাড়া পোর্টফলিওর মধ্যে আপনার নাম,ঠিকানা, পড়াশোনা ইত্যাদি দেওয়ার চেষ্টা করবেন। পোর্টফলিও বিভিন্ন ভাবে তৈরি করা যায়। আপনি অনলাইনে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন যেখানে আপনার কাজের দক্ষতাগুলো প্রকাশ করবেন এবং সেটাই হবে আপনার পোর্টফলিও। এছাড়া ফেসবুকে পেজ বানিয়ে সেখানে আপনার কাজগুলো প্রদর্শন করে পোর্টফলিও হিসাবে ক্লায়েন্টকে দেখাতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে কিভাবে টাকা ইনকাম করবেন?

অনলাইনে আয় করে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করে থাকে। কিন্তু কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করবেন? আসলে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একটি একাউন্ট তৈরি করতে হয়। একাউন্ট তৈরি করে প্রোফাইলটি নিজের মতো করে সুন্দরভাবে সাজাতে হয়।

ফ্রিল্যান্সিং-আয়

এখন মার্কেটে কাজ পাবেন কিভাবে? কাজ পাওয়ার জন্য মার্টেকটপ্লেসে এক্টিভ থাকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজ করে থাকেন তখন ব্রাউজার ওপেন করে মার্কেটেপ্লেসে ভিজিট করে থাকবেন।

মার্টেকেটে এক্টিভ থাকা গুরুত্বপূর্ণ কারণ যখন কোনো ক্লায়েন্ট কাজের জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে তখন আপনাকে ক্লায়েন্ট যেন অনলাইনে পায়। মূলত এর জন্যই মার্টেকেটে অনলাইনে এক্টিভ থাকতে হবে। কারণ আপনি যদি এক্টিভ না থাকনে তাহলে ক্লায়েন্ট আপনার সাথে যোগাযোগ না করে যে এক্টিভ আছে তার সাথে যোগাযোগ করবে।

আমি আগেই বলেছি বিভিন্ন আইটি সেন্টার রয়েছে যেখানে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে এবং কিছু আইটি সেন্টার আছে যারা কাজ ধরিয়ে দেয় অর্থাৎ ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। কোনো আইটি সেন্টার যদি ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ না করিয়ে দেয় তাহলে মার্কেটপ্লেসে এক্টিভ থেকে ক্লায়েন্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য কিছু গাইডলাইন

১। আপনি যদি ক্লায়েন্ট পেতে কোনো সমস্যা হয় তাহলে ফেসবুকে স্পন্সর করতে পারেন। এবং কেউ যদি আপনাকে দিয়ে কাজ করাতে চায় তাহলে আপনার মার্কেটপ্লেস একাউন্টে যেয়ে কাজের অর্ডার করতে বলবেন। এর একটি সুবিধা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে নতুনদের দিয়ে কেউ কাজ করাতে চায় না।

তাই আপনি যদি স্পন্সর করে ক্লায়েন্ট খুঁজে আপনার একাউন্টে কাজের অর্ডার নিতে পারেন তাহলে আপনার একাউন্ট মার্কেটপ্লেসে রাংক হবে। ফলে অন্যান্য ক্লায়েন্ট মনে করবে আপনি একজন পুরাতন ফ্রিল্যান্সার যার ফলে আপনি কাজের অর্ডার পাবেন।

২। ক্লায়েন্টের সাথে সবসময় সুন্দরভাবে কথা বলার চেষ্টা করবেন এবং কোনো কাজের অর্ডার পেলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে আকর্ষনীয়ভাবে কাজ করে দিবেন। এতে ক্লায়েন্ট পরবর্তি সময় আপনাকে দিয়ে আরো কাজ করিয়ে নিতে পারে।

৩। ফ্রিল্যান্সিং কাজ শেখার সময় মনোযোগ দিয়ে কাজ শিখবেন। আপনি যত দ্রুত কাজ শিখতে পারবেন তত দ্রুত আয় রোজগার করতে পারবেন। সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টা করবেন যা অন্যরা করতে পারে না। ক্লায়ন্ট সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে ইউনিক কাজ।

তাই নতুন কিছু করার জন্য সব সময় আপনার কাজ রিলেটেড অনলাইনে রিসার্চ করবেন। রিসার্চ করে দেখবেন কে কেমন কাজ করছে এবং কেমন কাজ বেশি চাহিদাসম্পন্ন।

সর্বশেষ,

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য আজকে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে চাইলে টাকা ইনকামের কথা চিন্তা না করে আগে কাজের দক্ষতা অর্জন করুন। এতে কাজের অর্ডার পাবেন অনেক আর টাকাও অনেক কামাতে পারবেন। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

Leave a Comment