পার্ট-টাইম-জব

পার্ট টাইম জব করার ৮টি সহজ উপায়। [ ছাত্রজীবনে আয় ]

কিভাবে পার্ট টাইম জব করে হাজার ডলার ইনকাম করা যায় তা নিয়ে আজকে আলোচনা করবো। পড়ালেখার পাশাপাশি বা বেঁকার ছেলে-মেয়েরা এখন বিভিন্ন ভাবে অনলাইন বা অফলাইন থেকে টাকা আয় করে থাকে এবং পরিবারের সকলের মুখ উজ্জ্বল করে দিচ্ছে। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়ে দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ তরুন-তরুনীরা। আশা করি আপনিও পারবেন এই সহজ উপায়গুলো ব্যবহার করে।

ছাত্র জীবনে অনেক শিক্ষার্থী তাদের ছোট খাটো স্বপনগুলো পূরণ করতে পারে না শুধু মাত্র তাদের পকেটে এক্সট্রা টাকা না থাকার কারনে। সব সময় পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া সম্ভব হয় না, আর হলেও পরিবার আপনাকে আর কত সাপোর্ট দিবে। আপনার উচিৎ এখন নিজের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে পরিণত করা।

আরো পড়ুন-

আপনি একবার ভেবে দেখুন পরিবার আপনাকে নিয়ে কত আশা আছে ছেলে বড় হবে একটি ভালো জব করবে ইত্যাদি। আর আপনি তাদের কথা চিন্তা না করে নিজের মতো করে ঘুরে ফিরে সময় পার করে দেন তাহলে আপনার পরিবার এক সময় আপনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দিবে।

ফলে আপনাকে তারা আর কোনো দিক দিয়ে সাপোর্ট দিবে না। তাই আজকে আমি আপনাদের সাথে কিছু উপায় নিয়ে হাজির হয়েছি যেগুলোর মাধ্যমে পড়ালেখার পাশাপাশি আয় করা সম্ভব।

১। টিউশনি করে আয়

পড়ালেখার পাশাপাশি অবশর সময়গুলো আপনি টিউশনিতে ব্যয় করতে পারেন। কারণ টিউশনি একটি সম্মানি পেশা যা আপনাকে সমাজের সবাই যেমন সম্মান করবে তেমনই ভাবে আপনার পড়ালেখা চর্চা হবে এবং সৃজনশীল মেধাশক্তি আরো প্রবল হবে। আর পেশায় ভালো ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে।

পড়ালেখার-পাশাপাশি-আয়

আপনি যেকোনো সাবজেক্ট নিয়ে টিউশনি শুরু করে দিতে পারেন যেমনঃ বাংলা, ইংরেজি ও অংক। বর্তমানে টিউশনির অনেক চাহিদা রয়েছে যার মাধ্যমে ভালো মানের টাকা ইনকাম করা যায়।

যারা ভালো টিউশনি করে শিক্ষার্থী যোগার করতে পারে তারা এটাকে পেশা হিসাবে বেঁছে নেয়ে বিভিন্ন কোম্পানির চাকরি বাদ দিয়ে। এই টিউশনির মাধ্যমে আপনার যেমন এক্সট্রা খরচগুল নিজেই চালাতে পারবেন এবং এর পাশাপাশি পরিবারের কাছে আপনার অনেক মূল্য থাকবে।

আপনি এখন বড় হচ্ছেন এই বয়সে আপনি যদি পরিবারের কাছে বার বার টাকা আবদার করেন তাহলে আপনার নিজেরই নিজেকে অনেক ছোট মনে হবে। তাই এই পেশাটি আপনি পার্ট টাইম জব হিসেবে বেঁছে নিতে পারেন।

২। ফটোগ্রাফি করে আয়

পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোগ্রাফি করেও আপনি ভালো মানের ইনকাম করতে পারেন। বর্তমান সময় আপনি একটা বেপার লক্ষ্য করে দেখবেন বিভিন্ন প্রোগ্রাম, বিয়ে পার্টি, বার্থডে পার্টি ইত্যাদি সব জায়গায় ফটোগ্রাফারদের হায়ার করে থাকে অর্থের মূল্যে।

ফটোগ্রাফি যদি আপনি শিখে নিতে পারেন তাহলে অনলাইনেও আপনি ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। ফটোগ্রাফি একটি ক্রিয়েটিভ ও মূল্যবান একটি পেশা। এই কাজে আপনাকে অনেক বেশি সৃজনশীল মেধাশক্তি ব্যবহার করতে হবে।

ফটোগ্রাফি-করে-আয়

মানুষ তাদের অসাধারণ মুহুর্তগুলোকে ক্যামেরা বন্ধি করে রাখতে চায় সৃতি হিসাবে রাখার জন্য। এছাড়া বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাদের সুন্দর সুন্দর ছবি আপলোড করার জন্য অনেক সময় ফটোগ্রাফার দের হায়ার করে থাকে।

ফটোগ্রাফি করার জন্য আপনার একটি ডিএসএলআর ক্যামেরার প্রয়োজন হবে। এর পাশাপাশি আপনাকে ফটো এডিটিং সম্পর্কে কিছু ধারনে নিতে হবে, ফটোগুলোকে আরো সুন্দর ও আকর্ষনীয় করার জন্য। ফটো এডিটিং সম্পর্কে কিছু ধারণা নেওয়ার জন্য আপনি ইউটিউবে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন।

ফেসবুকে একটি বিজনেস পেজ তৈরি করে সেখানে আপনার তোলা ছবিগুলোকে সুন্দর করে এডিটিং করে একটা “এট্রাক্টিভ লোক” দিয়ে আপনি সেখানে আপলোড করে দিতে পারেন। এবং আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে দিতে পারেন যে আপনি ফটোগ্রাফি সার্ভিস দিচ্ছেন কারণ যদি প্রয়োজন হয় তারা যেন আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

৩। ইউটিউব থেকে আয়

ইউটিউবে আপনি একটি চ্যানেল তৈরি করে বিভিন্ন টপিকের উপর ভিডিও বানিয়ে আপলোড করে টাকা ইনকাম করতে পারেন। আপনি যে বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালো জানেন সেগুলো নিয়ে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করতে পারেন। চাইলে আপনি স্মার্টফোন নিয়ে বিভিন্ন টিপস এন্ড ট্রিকস শেয়ার করতে পারেন।

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার পর আপনার চ্যানেলে যত সাবস্ক্রাইবার হবে আপনার ভিডিও তত বেশি ভিউ হবে। এর ফলে ভিডিও বেশি ভিউ হলে আপনার ইনকাম করার সুযোগ-সুবিধা বেড়ে যাবে।

Youtube-এ চার হাজার ঘন্টা ওয়াচটাইম ও ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার তৈরি করতে পারলে আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তাই পার্ট টাইম জব করার জন্য ইউটিউব বেঁছে নিতে পারেন।

৪। পার্ট টাইম জব ব্লগিং

আপনি যদি লেখালেখি করতে পছন্দ করেন তাহলে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করতে পারেন। ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য জনপ্রিয় সফটওয়্যার ওয়ার্ডপেস বেঁছে নিতে পারেন।

বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষ ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকে। এছাড়া আপনি গুগলের পণ্য ব্লগার দিয়েও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

ইউটিউবের মতো এখানেও আপনার যে বিষয়গুলো ভালো লাগে সেগুলো নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। মনে রাখবেন কোনো সাইট থেকে লেখা কপি করা যাবে না। যদি কপি করে আর্টিকেল তৈরি করেন তাহলে আপনার সাইটে গুগল এডসেন্স পাওয়া সম্ভব হবে না। আর গুগল এডসেন্স দিয়েই আপনার ইনকাম করতে হবে।

আর্টিকেল লেখার সময় নিজের মেধাশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। যত বেশি আর্টিকেল লিখবেন তত আপনার সাইটে ভিজিটর আসবে এবং ইনকাম করার সুযোগ-সুবিধা বেড়ে যাবে। মনে রাখবেন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনার ডোমেইন ও হোস্টিং এর দরকার হবে।

বাংলাদেশে এখন কম দামে অনেক হোস্টিং প্রোভাইটর রয়েছে যারা ডোমেইন ও হোস্টিং দিয়ে থাকে চাইলে সেখান থেকে ক্রয় করতে পারেন। তাই পার্ট টাইম জব করার জন্য আপনি ওয়েবসাইটে লেখালেখি করতে পারেন।

৫। ওয়েব ডিজাইন করে আয়

প্রায় প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের একটা ওয়েবসাইটের প্রয়োজন হয় তাদের প্রোডাক্ট সার্ভিসগুলোকে অনলাইনে প্রদর্শন করার জন্য। কারণ এখন সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্ম।

আপনি যদি পড়াশোনার পাশাপাশি ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যবহার পুরোপরি শিখে নিতে পারেন তাহলে এই প্লাটফর্ম দিয়ে আপনি দারুণ সব ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। যেটা আপনি পরবর্তিতে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে জব করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

অনলাইনে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম রয়েছে যেগুলোর মধ্যে আপনার ওয়েব ডিজাইন সার্ভিসটি প্রদর্শন করার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেমনঃ ফাইভার, আপওয়ার্ক ও ফ্রিল্যান্সার ডটকম। তাই ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম চাকরি করার জন্য ওয়েব ডিজাইন বেঁছে নিতে পারেন।

৬। পার্ট টাইম জব গ্রাফিক্স ডিজাইন

বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন এমন একটি কাজ যেটার চাহিদা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে দেওয়ার মাধ্যমেও পড়ালেখার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করতে পারেন।

আমি আগেই বলেছি গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি ক্রিয়েটিভ কাজ যা নিজের মেধাশক্তিকে কাজে লাগাতে হয়। এছাড়া এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচুর কোম্পানি তাদের ফেসবুক পেজ তৈরি করছে এবং সেই পেজগুলোর জন্য ব্যানার, পোস্টার ও লোগো ডিজাইন দরকার হচ্ছে যার কারণে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের হায়ার করছে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করেও অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়া ফেসবুকে একটি বিজনেস পেজ তৈরি করে আপনার সার্ভির প্রদর্শন করার মাধ্যমে গ্রাফিক্স কাজের অর্ডার পেতে পারেন। সুতরাং পার্ট টাইম জব করার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনকে বেঁছে নিতে পারেন।

৭। ভিডিও এডিটিং করে আয়

গ্রাফিক্স ডিজাইনের পাশাপাশি বর্তমানে ভিডিও এডিটিং এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আপনি ভিডিও এডিটিং এর কাজ শিখে নিতে পারলে অনলাইনে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে জব করতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রতিমাসে আপনি হাজার ডলারের বেশি ইনকাম করতে পারবেন।

বর্তমানে ইউটিউবের যুগ ইউটিউবে লক্ষ কোটি চ্যানেল আছে এই চ্যানেলগুলোতে আপনি ভাবতেও পারবেন না একাধিক ভিডিও এডিটর নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। কারণ তাদের চ্যানেলগুলোতে প্রচুর সাবস্কাইবার থাকে যার ফলে তারা ভিডিও বানানুর পর এডিটরদের খুঁজে থাকে।

বেশি সাবাস্ক্রাইবার থাকার কারণে তাদের চ্যানেলের ভিডিওগুলো কোয়ালিটিসম্পূর্ন হতে হয় তাই তারা ভালো মানের ভিডিও এডিটর খুঁজে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন পার্টি ও প্রোগ্রামের ভিডিও এডিট করে দেওয়ার জন্য অনেক ভিডিও ম্যান ভিডিও এডিটর খুঁজে থাকে তাদের সাথে পার্ট টাইম জব করার জন্য।

৮। পার্ট টাইম জব ডিজিটাল মার্কেটিং

প্রযুক্তির মাধ্যমে যে মার্কেটিংগুলো করা হয়ে থাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে থাকে। আপনি যদি কোনো পণ্য তৈর করতে পারেন সেটা চাইলে ফেসবুক বিজনেস পেজের মাধ্যমে বিক্রয় করে দিতে পারেন। এছাড়া আপনার পণ্য ফেসবুকে বুস্ট করে পেইড মার্কেটিং করতে পারেন পারেন।

ডিজিটাল-মার্কেটিং-করে-আয়

যদি আপনি কোনো পণ্য তৈরি করতে না পারেন তাহলে হোল সেলে কোনো পণ্য এনে খুচরা সেল করতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রতিটা বিক্রয় পণ্য থেকে আপনাকে কমিশন দেওয়া হবে।

মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরণের পণ্যের প্রয়োজন পরে এবং সেই প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট থেকে পণ্য নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনার একটি ওয়েবসাইট দরকার হবে এবং সেখানে পণ্যগুলো প্রদর্শন করে বিক্রয় করতে পারলে আপনাকে প্রতিটা পণ্য থেকে নির্দিষ্ট কমিশন দেওয়া হবে।

বর্তমানে অনেক ওয়েবসাইটের মালিক ও ইউটিউবার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে দ্বিগুণ হারে টাকা ইনকাম করছে। এই মার্কেটিং করার জন্য আপনার ভিজিটর দরকার হবে তাই ইউটিউবিং বা ওয়েবসাইট তৈরি করা আপনার প্রয়োজন।

সর্বশেষ,

পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করার জন্য আরো অনেক উপায় আছে যেগুলো বললে আর্টিকেলটি অনেক বড় হয়ে যাবে। তাই আমি মাত্র ৮টি উপায় বলে দিলাম এগুলোর কোনো একটিকেও আপনি সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে আপনি জীবনে সফলতে আনতে পারবেন সহজেই। এবং আপনার ছোট ছোট স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে পূরণ হতে থাকবে।

অবশ্যই মনে রাখবেন এই একটা কাজও কোন শর্টকাট উপায় না করে কিছুটা পরিশ্রম করুন। আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে যেকোনো একটিকেও সঠিব ভাবে চেষ্টা করেন দেখবেন আপনি একটা দারুণ রেজাল্ট পাচ্ছেন। আজ এ পর্যন্তই আশা করি আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক উপকারে আসবে।

Leave a Comment