ঘরে-বসে-আয়

ঘরে বসে কিভাবে মাসে হাজার ডলার আয় করবেন?

ঘরে বসে আয় করার জন্য অনেকেই চিন্তায় পড়ে যায় ও সঠিক দিক নির্দেশনা পায় না । কিন্তু আজকে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে বাড়িতে বসে আয় করা যায় ও এর উপায় কি? আপনি চাইলে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা ইনকাম করে নিজের ক্যারিয়ার আরো সুন্দর করে তুলতে পারেন। এই আধুনিক যুগে এখন বাড়িতে বসে ব্যবসা করে হাজার হাজার টাকা আয় করছে মানুষ। এছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করার বিভিন্ন মাধ্যমে রয়েছে অনলাইনে।

অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা এখন স্বল্প মূলধন নিয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে। আপনিও যদি একজন শিক্ষার্থী বা বেঁকার মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। কারণ আজকে এই ব্লগে ঘরে বসে আয় করার সেরা ১০ টি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আমাদের দেশে বেকারত্ব হার অনেক বেশি সেটা সবাই জানে, আর বেকারত্বকে কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন উপায় রয়েছে। সবাই কম-বেশি ইন্টারনেট সম্পর্কে জানি কারণ সবাই এখন স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে।

ইন্টারনেটে এখন নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে টাকা আয় করার জন্য। আপনি যদি ঘরে বসে আয় করতে চান তাহলে অনলাইন ইনকাম করা আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়। এছাড়া বাংলাদেশের কিশোর কিশোরীরা এখন অনলাইনে আয় করার জন্য সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে ফ্রিল্যান্সিং আয়।

আরো পড়ুন-

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য আপনাকে যেকোনো বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করে সঠিকভাবে সময়কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে পার্ট টাইম জব করতে পারবেন। অন্যদিকে আমরা সবাই যদি নিজেই নিজের কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারি তাহলে এই দেশে বেকারত্বের হার অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

সাধারণত শিক্ষিত মানুষ এখন কোনো চাকরি না পেয়ে বিভিন্ন ফার্ম তৈরি করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম চাকরি করতে বেশি পছন্দ করে। তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই ঘরে বসে পার্ট টাইম জব করার সেরা কয়েকটি উপায় সম্পর্কে।

১। ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং আয়

বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা এখন ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করছে এবং নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে। আপনি যেকোনো একটি বিষয়ের উপর ভালো দক্ষতা অর্জন করে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে প্রবেশ করে কাজ করতে পারেন অন্যান্য দেশের মানুষের সাথে।

ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি কাজ যেখানে আপনি এক দেশ থেকে অন্যান্য দেশের মানুষের কাজ করে দিতে পারেন ঘরে বসে এবং লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং-আয়

বাংলাদেশে বিভিন্ন আইটি ফার্ম রয়েছে যেখানে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে শেখানো হয়। এবং কিছু ভালো আইটি ফার্ম রয়েছে যারা আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং কাজ ধরিয়ে দিবে ও ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিবে। এভাবে আপনি স্বাধীন ভাবে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

২। ওয়েবসাইট থেকে আয়

আপনি যদি লেখালেখি করতে পছন্দ করেন তাহলে ব্লগিং করে আয় করতে পারেন হাজার ডলারের মত। ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েবসাইটের দরকার হয় এবং সেই ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করার জন্য এসইও করতে হবে।

আপনি যদি ভালো মানের আর্টিকেল লিখতে পারেন তাহলে ভিজিটর ভালো পাবেন এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবেন। এছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং না করতে পারলে আপনার ওয়েবসাইট গুগল এডসেন্স এর সাথে কানেক্ট করে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

৩। ঘরে বসে ইউটিউব থেকে আয়

অনলাইনে আয় করার জন্য অন্যতম সহজ উপায় হচ্ছে ইউটিউব থেকে ইনকাম। ইউটিউবে আয় করার জন্য আপনাকে একটি জি-মেইল একাউন্ট তৈরি করতে হবে এবং সেটা দিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন।

আপনি যদি ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয় ঘাটাঘাটি করে থাকেন তাহলে আপনি জেনে থাকবেন ইউটিউব কি। আপনি যে বিষয়ের উপর ইন্টারেস্ট অথবা যেটা আপনার কাছে ভালো লাগে সেটার উপর ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে দিবেন।

ইউটিউব-থেকে-ইনকাম

যদি ভালো করে ভিডিও এসইও করতে পারেন তাহলে অনেক সাবস্ক্রাইবার পাবেন। আপনার ভিডিও মানুষ যত দেখবে তত বেশি র‍্যাংক হবে। ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য আপনার চ্যানেলটি গুগল এডসেন্সের সাথে কানেক্ট করতে হবে।

এভাবে আপনার ভিডিওর মধ্যে গুগল বিজ্ঞান দেখাবে এবং সেই বিজ্ঞাপন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়া বিভিন্ন স্পন্সেরের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

৪। ঘরে বসে ফেসবুক থেকে আয়

ঘরে বসে আয় করার জন্য অন্যতম একটি উপায় ফেসবুকে আয়। বর্তমানে মানুষ সুধু যোগাযোগের জন্যই ফেইসবুক ব্যবহার করে থাকে না বরং ফেসবুক বিজনেস পেইজের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার জন্য ব্যবহার করে থাকে।

প্রায় কয়েক বছর ধরে ফেসবুক ভিডিও মনিটাইজেশন চালু করা হয়েছে এটা অনেকটা ইউটিউবের মত কাজ করে। ফেসবুকে একটি বিজনেস পেজ তৈরি করে সেখানে নিজের তৈরি করা বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

কোনো ভিডিও কপি করে আপলোড করলে আপনার মনিটাইজেশন বাদ হয়ে যেতে পারে। তাই নিজের তৈরি করা ভিডিও আপলোড করে মনিটাইজেশন অন করার মধ্যমে অর্থ উপার্জন করেত পারবেন।

৫। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

ঘরে বসে আয় করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সবচেয়ে ভালো। অনলাইনে বিভিন্ন কমার্সিয়াল সাইটগুলোর পণ্য আপনি যদি বিক্রয় করে দিতে পারেন তাহলে সেখান থাকে আপনি কমিশন পাবনে অর্থাৎ টাকা পাবেন।

পণ্যগুলো বিক্রয় করার জন্য আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুলতে হবে। যে সাইটের পণ্যগুলো আপনি বিক্রয় করতে চাচ্ছেন সেই পণ্যগুলোর সম্পর্কে আপনার সাইটে বর্ণনা দিবেন এবং এফিলিয়েট লিংক দিয়ে রাখবেন।

অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিং-করে-ইনকাম

এভাবে গ্রাহকরা আপনার সাইট থেকে পণ্য সম্পর্কে জেনে আপনার দেওয়া এফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করলে আপনি সেখান থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন বা কমিশন পাবেন। এভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে বর্তমান তরুণতরুণীরা।

৬। সিপিএ মার্কেটিং করে আয়

ঘরে বসে আয় করার জন্য অন্যতম আরেকটি উপায় হচ্ছে সিপিএ মার্কেটিং। এটা প্রায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মতই কিন্তু সিপিএ মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে পণ্য বিক্রয় করে দিতে হয় না শুধুমাত্র পণ্যগুলো মানুষের কাছে প্রচার করতে হয়।

সিপিএ মার্কেটিং কাজগুলো পাওয়ার জন্য ইন্টারনেটে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস রয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন কোম্পানি সিপিএ পণ্য দিয়ে থাকে যেগুলো আপনাকে মানুষের কাছে প্রচার করতে হবে।

কিভাবে আপনি সিপিএ পণ্যগুলো মানুষের কাছে প্রচার করবেন সেটা কোম্পানি বিস্তারিত ভাবে বলে দেয়। এই মার্কেটিং খুব সহজ এবং দ্রুত টাকা আয় করা সম্ভব হয়।

৭। ওয়েবসাইট ফ্লিপিং

বাড়িতে বসে ব্যবসা করার জন্য অন্যতম একটি ভালো উপায় হচ্ছে ওয়েবসাইট ফ্লিপিং করা। এর কাজ হচ্ছে আপনি স্বল্প মূল্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সুন্দর ভাবে ডিজাইন করবেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রয় করে দিবেন। ওয়েবসাইট ডিজাইন করে বিক্রয় করলে অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়।

ওয়েবসাইট বিক্রয় করার জন্য আপনি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে একাউন্ট তৈরি করে প্রচার প্রচারণা করতে পারেন অথবা ফেসবুকে স্পন্সর করতে পারেন। ওয়েবসাইট কিছু দিন ব্যবহার করে কিছু ভিজিটর নিয়ে আসতে পারলে আপনার সাইট বিক্রয় হতে বেশি সময় লাগবে না। এর মাধ্যমে দিগুন হারে লাভ করতে পারবেন।

৮। এপস তৈরি করে ইনকাম

বর্তমানে এন্ড্রোয়েড এপস তৈরি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। মোবাইল ইউজারের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে যার জন্য এন্ড্রোয়েড অ্যাপ ব্যবহারের চাহিদাও বাড়ছে।

অ্যাপস তৈরি করার জন্য কোডিং নলেজ অর্জন করে বিভিন্ন এপস তৈরি করে গুগল প্লে স্টোরে পাবলিশ করে দিবেন এবং সেখান থেকে আপনার ইনকাম আসবে। এপস থেকে আয় করার জন্য গুগল একটি সেবা চালু করেছে যার নাম গুগল অ্যাডমব।

এপস-তৈরি-করে-ইনকাম

এই অ্যাডমবের কাজ হচ্ছে অ্যাপের মধ্যে বিজ্ঞাপন দেখানু। আপনি যখন গুগল প্লে স্টোর থেকে কোনো অ্যাপস ডাউনলোড করে ব্যবহার করেন সেটার মধ্যে খেলায় করবেন কিছু সময় বিজ্ঞাপন দেখায় আর এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অ্যাপের মালিক ডলার ইনকাম করে থাকে।

এভাবে আপনিও অ্যাপ তৈরি করে গুগল প্লে স্টোরে পাবলিশ করে ডলার ইনকাম করতে পারবেন। শুধু তাই নয় আপনি চাইলে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে অ্যাপ বানিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

৯। টিউশনি করে আয়

আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী বা শিক্ষিত ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে অনলাইনে টিউশনির মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এর জন্য আপনি ফেসবুকে একটি পেজ তৈরি করতে পারেন এবং স্পন্সর করে অনেক শিক্ষার্থী পেতে পারেন।

অথবা যে সাবজেক্টে আপনি অনেক ভালো সেই বিষয়ের উপর ইউটিউবকে প্লাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। অনলাইনে যদি শিক্ষার্থী খুঁজে না পান তাহলে আপনার বাসার আশেপাশে যারা শিক্ষার্থী তাদেরকে পড়াতে পারেন।

টিউশনি-করে-আয়-ঘরে-বসে-আয়

এভাবে টিউশনি করে আয় করতে পারেন মাসে হাজার হাজার টাকা। টিউশনি করলে আপনার নিজেরও বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন হবে এবং আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে টিউশনি করলে সবকিছু চর্চা থাকবে।

১০। ওয়েব/গ্রাফিক্স ডিজাইন

আপনি যদি ছবি আঁকা বা বিভিন্ন ডিজাইনিং করতে ভালোবাসেন তাহলে ওয়েব ডিজাইন বা গ্রাফিক্স ডিজাইন আপনার জন্য বেস্ট। অনলাইনে এই কাজগুলোর চাহিদা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।

যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে জান তাহলে সেখানে দেখতে পারবেন এই কাজগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই কাজগুলো যারা জানে তারা আর ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করে না তারা এখন লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক।

আপনি যত ভালো কাজ করতে পারবেন আপনার ইনকাকের সুযোগ-সুবিধা ততটাই বাড়তে থাকবে। যখন আপনি ভালো একজন ডিজাইনার হয়ে যাবেন তখন আপনি এতটাই কাজের অর্ডার পাবেন যে তখন কাজ করে আর শেষ করতে পারবেন না। তাই বলব অনলাইন ক্যারিয়ারে যদি ভালো কিছু করতে চান তাহলে আমার দেওয়া এই ১০ টি উপায় ফলো করুন।

Leave a Comment