এডমোব-থেকে-আয়

গুগল এডসেন্স কি? কিভাবে এর থেকে টাকা আয় করবেন?

ইন্টারনেটে অনেকেই জানে না গুগল এডসেন্স কি ও এর কাজ সম্পর্কে। ওয়েবসাইটে গুগল থেকে বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য Google adsense একাউন্ট খুলতে হয়। কিভাবে গুগল এডসেন্স অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যায় এবং এর থেকে কীভাবে অনলাইনে টাকা ইনকাম করা যায় সেটা আজকে আমরা জানব। গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে ইউটিউব বা ওয়েবসাইট থেকে ডলার আয় করা যায়। অনেকেই এটা থেকে অর্থ তোলার পদ্ধতি ও ব্যবহারের নিয়ম জানে না। অনলাইন ইনকাম করার জন্য Google Adsense Account অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

আপনি যদি কোনো ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে উপার্জন করতে চান তাহলে আপনাকে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন চালাতে হবে, সেটা হতে পারে কোনো কোম্পানি থেকে স্পনসর বা গুগল থেকে সরাসরি বিজ্ঞাপন।

আবার আপনি যদি কোনো অ্যাপ থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইনকাম করতে চান তাহলে Admob একাউন্ট তৈরি করতে হবে। গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার জন্য বর্তমানে মানুষ ইউটিউব চ্যানেল খুলে থাকবে অথবা ওয়েবসাউট তৈরি করে থাকে।

আপনি যদি গুগল থেকে ইনকাম করতে চান তাহলে আপনাকে গুগলের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এতে আপনি গুগলের বিপরীতে কিছু করলে google adsense থেকে আয় করতে পারবেন না। ইউটিউব থেকে গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার জন্য আলাদা কিছু শর্ত রয়েছে এবং সেগুলো মেনে নিলে আপনি ইউটিউবে আয় করতে পারবেন খুব সহজেই।

Google Adsense সাইটে আপনি প্রবেশ করলে সেখানে বিভিন্ন সার্ভিস দেখতে পারবেন। আপনি সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এবং এর পাশাপাশি আপনি গুগলে বিজ্ঞাপনও চালাতে পারবেন, এইসব কিছু একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই করতে পারবেন।

আরো পড়ুন-

আপনি যদি মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপস ডাউনলোড করে থাকেন তাহলে অবশ্যই এটা দেখেছেন যে অ্যাপের ভিতরে প্রবেশ করলে মাঝে মাঝে কিছু বিজ্ঞাপন শো করে।

আর এই বিজ্ঞাপন গুলো দেখায় মূলত Admob থেকে। আপনি যদি কোনো সফটওয়্যার তৈরি করে উপার্জন করতে চান তাহলে আপনাকে Admob Account খুলতে হবে। এতে আপনি সফটওয়্যারের যেখানে যেখানে বিজ্ঞাপন দেখাতে চান সেখানে কোড বসায় দিলেই বিজ্ঞাপন দেখতে পারবে অ্যাপ ব্যবহারকারীরা।

এর মাধ্যমে যারা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে প্রতি ক্লিকে আপনি সেখান থেকে কমিশন পাবেন। মূলত ক্লিকের মাধ্যমে টাকা আসে বেশি আর ইম্প্রেশনে খবই কম উপার্জন হয়। তাহলে চলুন গুগল এডসেন্স সম্পর্কে জেনে নেই।

গুগল এডসেন্স এর কাজ কি

বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দাতারা তাদের বিজ্ঞাপন ইন্টারনেটে দেখানোর জন্য গুগলের সাথে যোগাযোগ করে থাকে। যারা বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে তাদেরকে Advertiser বলা হয় আর যারা বিজ্ঞাপন পাবলিশ করে থাকে তাদেরকে Publishers বলা হয়। গুগল এডসেন্স একটি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক যেটার মাধ্যমে ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়।

আপনি চাইলে গুগল অ্যাডসেন্স ছাড়া সরাসরি কারো সাথে চুক্তি করে ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন সেটা সম্পূর্ণই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনি যেটার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে লাভবান হবেন সেটাই করতে পারেন কোনো সমস্যা নেই। বিভিন্ন কোম্পানি ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য গুগলের সাথে চুক্তি করে থাকে কারণ গুগল ইন্টারনেটের বিশাল বড় জায়গা দখল করে রেখেছে।

আর বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মালিক বা ইউটিউবার টাকা ইনকাম করার জন্য গুগল এডসেন্স অ্যাকাউন্ট তৈরি করে থাকে। ফলে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে যারা ইনকাম করতে চায় তাদের ওয়েবসাইটে বা ইউটিউব চ্যানেলে গুগল বিজ্ঞাপন দেখিয়ে থাকে।

এতে গুগল বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে চুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে সেই সব জায়গায় যারা গুগল এডসেন্স দ্বারা টাকা উপার্জন করতে চায়। আপনার বিজ্ঞাপনটি দ্রুত প্রচার করার জন্য গুগল অ্যাডসেন্স সবচেয়ে ভালো উপায় হবে বলে আমি মনে করি।

আপনি যদি গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে কোনো একটি মাধ্যম বেছে নিতে হবে সেটা হতে পারে কোনো ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল ইত্যাদি।

গুগল এডসেন্স একাউন্ট কত প্রকার:

Google Adsense Account দুই ধরণের –

  1. Hosted AdSense Account
  2. Non-Hosted AdSense Account

হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট কি

অনলাইনে গুগলের বিভিন্ন প্রোডাক্ট রয়েছে যেমনঃ ইউটিউব, ব্লগস্পট ইত্যাদি। এখন আপনি যদি গুগল প্রোডাক্টের মধ্যে এডসেন্স একাউন্ট দিয়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইনকাম করতে চান তাহলে সেটাকে হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট বলা হবে।

অর্থাৎ আপনি যদি গুগলের কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করে সেটার মধ্যে Adsense Account দিয়ে ইনকাম করতে চান তাহলে সেই অ্যাকাউন্টের নাম হবে হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট। আপনি যদি নিজের মতো করে কোনো ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে থাকেন তাহলে সেটার মধ্যে হোস্টেড অ্যাডসেন্স একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন না।

হোস্টেড একাউন্টের জন্য আপনাকে গুগলের পণ্য গুলোই ব্যবহার করতে হবে। এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, এখন ইউটিউবে চ্যানেল খুলে মানুষ এডসেন্স অ্যাকাউন্ট দিয়ে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছে।

নন হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট

আপনি ইচ্ছে করলে একটি Adsense Account দিয়ে যেকোনো ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব থেকে আয় করতে পারেন। যখন আপনি গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার জন্য ইউটিউব বা বিভিন্ন ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এবং এর মধ্যে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে উপার্জন করবেন তখন আপনি হয়ে যাবেন একজন পাবলিশার।

আর আপনি যখন একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট দিয়ে ইউটিউব বা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে উপার্জন করবেন তখন সেটাকে বলা হবে নন হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট। এইসব একাউন্টের মাধ্যমে যদি অর্থ উপার্জন করতে চান তাহলে নিজের মতো করে ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স একাউন্ট তৈরি

কিভাবে গুগল এডসেন্স একাউন্ট খুলব? এই প্রশ্নটি আপনার মাথায় আসতে পারে তাই আপনাকে গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে কিছু তথ্য দেই। আপনি চাইলেই Google Adsense-থেকে আয় করতে পারবেন না, এরজন্য কিছু মাধ্যম লাগবে সেটা হতে পারে কোনো ওয়েবসাইট, অ্যাপস বা ইউটিউব চ্যানেল।

আপনি যদি ওয়েবসাইটের জন্য এডসেন্স একাউন্ট তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে গুগল এডসেন্স এর নিয়ম মেনে নিতে হবে। আপনার ওয়েবসাইটে কোনো কপি আর্টিকেল বা ইমেজ থাকা যাবেন না। ওয়েবসাইটের মধ্যমে PRIVACY POLICY, ABOUT US, CONTACT US, TERMS & CONDITIONS এই পেজ গুলো থাকতে হবে। সাথে মোটামোটি দৈনন্দিন ওয়েব ভিজিটর থাকতে হবে।

গুগল এডসেন্স একাউন্ট আপনি এক চান্সে নাও পেতে পারেন। আপনি যখন একাউন্ট তৈরি করার জন্য সম্পূর্ণ নির্ভুল তথ্য দিয়ে সাইন আপ করবেন তখন আপনার ইমেইলে জানিয়ে দেওয়া হবে একাউন্ট এক্সেপ্ট করা হয়েছে কি না।

অনেক সময় গুগল আপনার সাইটের কোনো ভুল ত্রুটি খোঁজে পেলে একাউন্ট এক্সেপ্ট করবে না, আর কিসের জন্য এক্সেপ্ট করবে না এটা আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এক চান্সে সবাই একাউন্ট এপ্রোভ করাতে পারে না, এর জন্য আপনাকে কয়েকদিন পর পর চেষ্টা করে যেতে হবে যখন অ্যাকাউন্ট এপ্রোভ হবে সাথে সাথে আপনাকে জানিয়ে দিবে। অন্যদিকে আপনি যদি ইউটিউব থেকে আয় করতে চান গুগল অ্যাডেসেন্স দিয়ে তাহলে আপনাকে ইউটিউবের কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে।

আপনার ইউটিউব চ্যানেলে যদি ৪,০০০ ঘন্টা ওয়াচটাইম এবং ১,০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকে তাহলে আপনি গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য এপ্লাই করতে পারবেন। প্রথম চান্সে যদি অ্যাকাউন্ট এপ্রোভ না পান তাহলে কয়েকদিন পর দ্বিতীয়বার আবার চেষ্টা করবেন।

আপনি একবার এপ্লাই করে সাথে সাথে আবার এপ্লাই করবেন না এতে আপনার একাউন্ট এপ্রোভ নাও হতে পারে। কারণ অনেক সময় এপ্লাই পেন্ডিং এ থাকে যার ফলে আপনাকে কিছু দিন পরে ফলাফল জানাতে পারে।

গুগল অ্যাডসেন্স কিভাবে টাকা দেয়

Google Adsense কিভাবে টাকা দেয় এটা জানার এগে আমাদের আরো কিছু তথ্য জেনে নিতে হবে। CPM যার পূর্ণরুপ হল Cost Per Mille এটি মুলত ল্যাটিন ভাষা থেকে এসেছে।

যখন কোনো বিজ্ঞাপন দাতা তাদের বিজ্ঞাপনের জন্য কারো সাথে চুক্তি করে তার বিজ্ঞাপন এক হাজার বার প্রদর্শন করার জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করে তাকে CPM বলে।

অর্থাৎ আপনি যদি কোনো পাবলিশারের সাথে চুক্তি করেন যে প্রতি ১,০০০ বার বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য 2.00$/CPM প্রদান করবেন তাহলে সেটাকে সিপিএম বলা হয়। এখানে আপনি প্রতি ১,০০০ বার বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য যেকোনো পরিমাণে অর্থ প্রদান করতে পারেন সেটা সম্পূর্ণই আপনার নিজের কাছে।

এরপর CPC সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই। আপনি যদি একজন বিজ্ঞাপন দাতা হিসাবে কাজ করতে চান তাহলে আপনাকে সিপিসি সম্পর্কে জানতে হবে। CPC এর পূর্ণরুপ হল Cost Per Click যেটা একজন বিজ্ঞাপন দাতার জন্য ব্যবহৃত।

যখন কোনো বিজ্ঞাপন দাতা ইন্টারনেটে তার পণ্য বিক্রয় বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে তখন তার বিজ্ঞাপনে প্রতি এক হাজার ক্লিকের জন্য যে পরিমাণে অর্থ প্রদান করে তাকে CPC বলে। এইভাবে ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য মানুষ বেশিরভাগ গুগলকে বেছে নিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন-

এখন জেনে নেই গুগল এডসেন্স কিভাবে টাকা দেয় পাবলিশারদের। এর জন্য জানতে হবে গুগল কিভাবে এডভার্টাইজারদের দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে।

যখন কোনো এডভার্টাইজার ইন্টারনেটে গুগলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে চায় তখন গুগল তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে টাকা নিয়ে থাকে। আর সেখান থেকে প্রায় ৪৯% গুগল রেখে দেয় এবং বাকি ৫১% বিজ্ঞাপন পাবলিশারদের দিয়ে থাকে অর্থাৎ যারা ইউটিউব বা ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করে থাকে তারা পেয়ে থাকে।

এখানে প্রতি ইউটিউবার বা ওয়েবসাইটের মালিক ৫১% পাবে না, যারা বেশি বিজ্ঞাপন মানুষের কাছে প্রদর্শন করাতে পারবে তারাই বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবে আর তারা সেই ৫১% থেকেই টাকা পাবেন। এখন কিছু কিছু বিজ্ঞাপন দাতা শুধু পণ্যের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে অর্থাৎ শুধু মানুষের কাছে উপস্থাপন করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।

আর এরা মূলত বিজ্ঞাপনের জন্য কম টাকা দিয়ে থাকে। এই ধরণের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনার সাইটের ভিজিটররা বিজ্ঞাপনের মধ্যে ক্লিক না করলেও টাকা পাবেন কিন্তু খুব কম।

আর অনেক বিজ্ঞাপন দাতা আছে পণ্যের বিক্রয় বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এতে আপনার সাইটে বিজ্ঞাপন শো করলে ভিজটররা সেটায় ক্লিক করলে টাকা পাবেন অন্যথায় পাবেন না।

এতে আপনার সাইটের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে যদি ভিজিটর পণ্যটি ক্রয় করে থাকে তাহলে আপনি বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবেন। মনে রাখবেন নিজের সাইটের বিজ্ঞাপনে নিজে কখনো ক্লিক করবেন না এতে আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট বাদ হয়ে যেতে পারে।

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়

আপনি যদি উপরের লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েন তাহলে ইতি মধ্যে আপনি বুঝে গেছেন কিভাবে গুগল থেকে টাকা আয় করা যায়। Google Adsense থেকে আয় করতে পারবেন অনেক ভাবেই কিন্তু সবচেয়ে সহজ ভাবে যদি ইনকাম করতে চান তাহলে সেটা হবে কোনো ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল।

বর্তমানে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ইন্টারনেটে উপার্জন করার জন্য ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে থাকে। কারণ এগুলোর মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

আপনি শুধু গুগল এডসেন্স দিয়েই ইনকাম করতে পারবেন বিষয়টা তা নয়। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে ভালো ভাবে এসইও করে দৈনিক ভালো ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং করেও আয় করা সম্ভব। একই প্রক্রিয়ায় আপনি ইউটিউব চ্যানেল থেকেও মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স দিয়ে ওয়েবাসাইট থেকে আয়

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে ডোমেইন ও হোস্টিং এর প্রয়োজন হবে। আপনি যদি স্বল্প মূল্যে ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করতে চান তাহলে বাংলাদেশে বিভিন্ন হোস্টিং প্রোভাইডার রয়েছে যারা হোস্টিং এর সাথে ডোমেইন ফ্রি দিয়ে থাকে সেখান থেকে ক্রয় করতে পারেন।

অথবা আপনি গুগলের প্রোডাক্ট ব্লগস্পট ডট কম থেকে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। আমার মতে এই ফ্রি ওয়েবসাইট আপনার জন্য বেশি ভালো হবে না। তাই যদি অনলাইন ইনকাম করতে চান তাহলে একটু খরচ করতে হবে ফলে কোনো এক সময় আপনি সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

ওয়েবসাইট-তৈরি-করে-আয়

ওয়েবসাইট খুলার পর আপনি ভালো মানের এসইও করে কিছু হাইকোয়ালিটি কনটেন্ট পোস্ট করবেন। এতে আপনার ওয়েবসাইট গুগল দ্রুত র‍্যাংক করবে এবং ভালো মানের ভিজিটর পাবেন।

মনে রাখবেন কোনো কিছু কপি করে সাইটে আপলোড করবেন না ফলে আপনার গুগল এডসেন্স একাউন্ট খুলার সময় সমস্যা হতে পারে। আপনি গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট খুলার পর সাইটে কোনো ইমেজ বা অন্যকিছু চাইলে করে আপলোড করতে পারেন তখন তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

আর আপনি যদি ভালো মানের ভিজিটর আর সাইট সব সময় র‍্যাংকে রাখতে চান তাহলে আপনার উচিৎ ইউনিক কনটেন্ট পোস্ট করা। কারণ ইউনিক কনটেন্ট গুগল বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

গুগল এডসেন্স দিয়ে ইউটিউবে আয়

আপনি যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই জানেন যে ইউটিউব কি? ইউটিউব একটি ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম এটা সকল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর বেশিরভাগ মানুষই জানে।

এটা একটি গুগলের পণ্য যার মাধ্যমে গুগল প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। ইউটিউব খুব জনপ্রিয় প্লাটফর্ম যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিজিট করে থাকে বিভিন্ন ধরণের ভিডিও দেখার জন্য। আপনি যদি এই জনপ্রিয় প্লাটফর্ম থেকে ইনকাম করতে চান তাহলে আপনাকে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে।

গুগল-এডসেন্স-ইউটিউব

ইউটিউবে আয় করার জন্য আপনাকে মনিটাইজেশন অন করতে হবে। মনিটাইজেশন শব্দটি মনিটাইজ থেকে এসেছে যেটার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যায়। আপনার যখন ইউটিউব চ্যানেলে এক হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং চার হাজার ঘন্টা ওয়াচটাইম হয়ে যাবে তখন আপনি মনিটাইজেশন অন করার জন্য গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করতে পারবেন।

মনিটাইজেশন অন করতে পারলে গুগল এডসেন্স থেকে আপনার ইউটিউব ভিডিও গুলোর মধ্যে বিজ্ঞাপন দেখাবে ফলে যারা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে সেখান থেকে আপনার ডলার ইনকাম হবে।

মনে রাখবেন গুগল এডসেন্স সব সময় ডলারে পেমেন্ট করে থাকে, আপনাকে তারা টাকা দিবে না বরং ডলার দিবে। ইউটিউবের ক্ষেত্রেও আপনি কোনো কনটেন্ট কপি করে আপলোড করতে পারবেন না। এই দিকে শতর্ক থাকবেন কারণ আপনার চ্যানেলে যদি ৩টি কপিরাইট ক্লেইম চলে আসে তাহলে আপনার চ্যানেল বাদ হয়ে যাবে।

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা তোলার পদ্ধতি

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা তোলার জন্য আপনাকে প্রথমে এডসেন্স একাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে। ভেরিফাই করার সময় আপনার সঠিক তথ্য দিবেন। কারণ গুগল থেকে আপনাকে একটি চিঠি প্রদান করবে আর সেই চিঠির মধ্যে একটি পিনকোড দেওয়া থাকবে যেটা দিয়ে আপনার গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট ভেরিফাই সম্পন্ন করতে হবে।

এখন টাকা তোলার জন্য আপনাকে “Payment Methods” এ যেতে হবে এবং আপনার ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করতে হবে। এরপর থেকে আপনি যেকোনো সময় টাকা তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। টাকা তোলার জন্য আবেদন করলে আপনি সাথে সাথে টাকা পাবেন না, এর জন্য আপনাকে কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

সর্বশেষ,

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে যদি না বুঝতে পারেন তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এবং আর্টিকেলটি ভালো লাগলে কমেন্ট ও শেয়ার করবেন। গুগল এডসেন্স সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন। [ধন্যবাদ]!

Leave a Comment