ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

ইউটিউব থেকে আয় করা যায় কিভাবে? [ ইউটিউবে আয়ের সহজ উপায় ]

বর্তমানে ইউটিউব সারা বিশ্বে সবার কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই ভিডিও প্লাটফর্ম ইউটিউব থেকে আয় (Earnings from YouTube)-করা এখন সবার কাছেই সহজ। অনলাইনে ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য একটি মোবাইল বা ল্যাপটপ হলেই চলবে। ইউটিউব সাধারণ জনগণের জন্য নানা ধরণের সুযোগ ও উপায় করে দিয়েছে। ফ্রি ভিডিও দেখা থেকে শুরু করে ইউটিউব থেকে আয় করা পর্যন্ত বিভিন্ন রকম সুবিধা। ইউটিউব মনিটাইজেশন অন করে এর থেকে টাকা আয় করা যায়।

আপনি খুব সহজেই ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে বা ল্যাপটপের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় (Earnings from YouTube)-করতে পারবেন। মানুষ বিভিন্ন ধরণের ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আয় করছে। একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে অনলাইনে আপনার অভিজ্ঞতা ও জানা-অজানা নানা ধরণের তথ্যের উপর ভিত্তি করে ভিডিও বানিয়ে শেয়ার করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ইউটিউবে আয় করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা। আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আপনার চ্যানেলের ভিডিওর মধ্যে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাতে পারবেন। ইউটিউব সাধারণ জনগণদের আয় করার সুযোগ করে দিলেও তাঁরা বিভিন্ন নিয়মাবলী দিয়েছেন। যেগুলো মেনে নিয়ে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা করার উপায়

আপনি যদি ইউটিউবে আয় করতে চান তাহলে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আজকে আমি ইউটিউবে আয় করার যাবতীয় গাইডলাইন শেয়ার করব। বিস্তারিত ভাবে ইউটিউব সম্পর্কে আলোচন করা হবে। কারণ অনেকের এখনো ইউটিউব সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই। আর ইউটিউব থেকে আয় করার সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আপনি ঘরে বসে সম্পূর্ণ ফ্রি টাকা আয় করতে পারবেন।

ইউটিউব সম্পর্কে কেন জানতে হবে?

মনে করেন আপনি একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে জব করেন আয় রোজগার করার জন্য। কিন্তু আপনি যদি সফটওয়্যার সম্পর্কে না জানেন বা সফটওয়্যারই তৈরি করতে না পারেন তাহলে কোম্পানি আপনাকে কেন টাকা দিবে? হ্যাঁ এর জন্য আপনার জানতে হবে সফটওয়্যার কিভাবে বানাতে হয় ইত্যাদি।

ঠিক একইভাবে আপনি যদি ইউটিউব থেকে আয় করতে চান তাহলে ইউটিউব সম্পর্কে জানতে হবে এবং কিভাবে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করতে হয় ও ভিডিও কিভাবে বানাতে হয় ইত্যাদি। সুতরাং আপনি যেহেতু ইউটিউব থেকে আয় করতে চাচ্ছেন তাই ইউটিউবে বেশি করে সময় দিন আর বিভিন্ন অপশন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনি একজন অভিজ্ঞ ইউটিউবার হতে পারবেন।

ইউটিউব কি (What is YouTube)?

বর্তমান বিশ্বে ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যাপক সারা ফেলেছে। ইউটিউব নিজে যেমন টাকা আয় করে থাকে এবং অন্যদেরও টাকা আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। ২০০৫ সালে তৈরি হওয়া এই ইউটিউব খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সবার মন জয় করে নিয়েছে। ইউটিউব তৈরি করেছিলো তিন বন্ধু মিলে আর এর মধ্যে একজন ছিলো বাংলাদেশী এক প্রবাসীর ছেলে।

যাইহোক ইউটিউব যখন সবার কাছে জনপ্রিয় হয়েছে ২০০৬ সালে গুগল ইউটিউবকে ১৬৫ কোটি ডলারের বিনিময় কিনে নেয়। এরপর থেকে গুগলই ইউটিউবের মালিক হয়েছে। বর্তমান সময় ইউটিউব গুগলের আয়ের অনেক বড় একটা অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে। চাইলেও আপনিও ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে পারেন। চলুন আরো জেনে নেই।

ইউটিউব কিভাবে আয় করে (How does YouTube make money)?

আপনারা এরই মধ্যে জেনে গেছেন ইউটিউব গুগলের একটি প্রোডাক্ট। সাধারণত ইউটিউব আয় করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্যাক্তিবর্গ ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য ইউটিউবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। ইউটিউব তাদের চুক্তি অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখিয়ে টাকা আয় করে। শুধু ইউটিউব একাই আয় করে না, যারা পাবলিসার রয়েছে তাদেরকেও ইউটিউব তার ইনকামের কিছু অংশ শেয়ার করে।

মূলত ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যারা ইউটিউবের সাথে চুক্তি করে তারাই ইউটিউবের আয় উৎস। আর ইউটিউবে যারা ভিডিও শেয়ার করে আয় করে তাদেরকে বলা হয় পাবলিসার। আর এই পাবলিসাররা গুগল এডসেন্সের সাহায্যে ইউটিউব থেকে আয় করে। আর এই পাবলিসারদের মাধ্যমে ইউটিউব তার আয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেয়।

বর্তমানে ইউটিউব শুধু বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই আয় করে না কারণ ইউটিউব বিভিন্ন ভাবে আপডেট করছে। তাঁরা প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ তৈরি করেও এখন ইনকাম শুরু করেছে। এটা অনেকেই এখন ব্যবহার করে থাকে কারণ এরজন্য ইউটিউব প্রিমিয়াম মেম্বারদের নানা ধরণের সুযোগ করে দিয়েছে। সুতরাং ইউটিউব প্রিমিয়াম মেম্বারশীপ ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করে।

ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য কি কি লাগবে?

অনলাইনে ইউটিউবের মাধ্যমে যারা ইনকাম করতে চায় তাদের মাথায় এই প্রশ্নটি অবশ্যই আসবে। আসলে ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার জন্য কি প্রয়োজন সেটার নির্ভর করে আপনি কি ধরণের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিডিও বানাতে চান সেটার উপর। তবে আমি আইটি ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিডিও বানানোর জন্য ১০ বিষয় সম্পর্কে বলব।

  1. ইউটিউব ব্যবহার করার জন্য স্মার্ট ফোন বা ল্যাপটপ/কম্পিউটার।
  2. ইউটিউবে ভিজিট করার জন্য ইন্টারনেট কানেকশন।
  3. জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে ইউটিউব সাইন আপ করতে হবে।
  4. কি ধরণের ভিডিও বানাবেন সেই টপিক নির্বাচন করা।
  5. ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে।
  6. চ্যানেল ভেরিফাই করার জন্য ডেসক্রিপশন/মোবাইল নাম্বার/লোগো/ব্যানার ইত্যাদি।
  7. ইউটিউব ভিডিও তৈরি করার জন্য বিভিন্ন উৎস বা স্ক্রিন রেকর্ড করার এপস।
  8. ভিডিও এডিট করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার।
  9. ইউটিউব ভিডিও এসইও করার জন্য বিভিন্ন টুলস/বেসিক এসইও শেখা।
  10. ভিডিওতে ভিউ বাড়ানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ/পেজ খুলতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম :

আপনি যদি ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই একটি চ্যানেল তৈরি করতে হবে। একটি জিমেইল একাউন্ট তৈরী করে ইউটিউবে সাইন আপ করে নিলেই আপনি চ্যানেল খোলার সুযোগ পাবেন।

চ্যানেল খুলতে হলে আপনার ঠিক করতে হবে কি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করবেন। আর সেই রিলেটেড একটি চ্যানেল বানাতে হবে। তাহলে চ্যানেলের সাথে আপনার ভিডিওগুলোর একটা মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। ফলে মানুষ আপনার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করবে। বিস্তারিত ভাবে স্টেপ বাই স্টেপ ইউটিউব চ্যানেল তৈরি উপায় জানতে এখানে ক্লিক করুন

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার নিয়ম :

ইউটিউব চ্যানেল বানিয়ে সাথে সাথে ভিডিও আপলোড করে টাকা ইনকাম করা যাবে বিষয়টা ঠিক এমন নয়। প্রথম দিকে ইউটিউব ভিডিও আপলোড করার আগে আপনাকে একটু ভেবে নিতে হবে। আপনার চ্যানেলের প্রথম ভিডিওগুলো মানুষ দেখে যেন আকৃষ্ট হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোয়ালিটিসম্পূর্ণ ভিডিও বানিয়ে সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে হবে।

ভিডিও ভিউয়ার্সদের জন্য এমন কিছু ভিডিও বানানোর চেষ্টা করবেন যেগুলো দেখে সবাই আনন্দ পায় ও কিছু শিখতে পারে। এর ফলে আপনার ভিডিও সবাই বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করবে। ধীরে ধীরে আপনার চ্যানেল ভাইরাল হতে থাকবে আর সাবস্ক্রাইবার বাড়তে থাকবে।

আপনি এরই মাঝে জেনে গেছেন যে ইউটিউব থেকে কিভাবে আয় করা যায়। হ্যাঁ গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইউটিউব ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আয় করা যায়। আর তাই আপনার ভিডিও যদি ভালো না হয় তাহলে কেউ সেই ভিডিও দেখবে না। সুতরাং কেমন ভিডিও আপনার চ্যানেলে আপলোড করছেন সেটা একটু দেখে নিবেন।

আর হ্যাঁ আপনি যদি ইউটিউব থেকে আয় করার একটা ভালো পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই একটি বিষয় মাথায় রাখবেন। কখনোই অন্যের ভিডিও আপনার চ্যানেলে আপলোড করবেন না। অর্থাৎ কপি করে কোনো ভিডিও আপলোড করলে আপনার চ্যানেল বাদ হয়ে যেতে পারে। ফলে আপনার এতো পরিশ্রম কোনো কাজে আসবে না।

আরো পড়ুন-

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার জন্য আপনার চ্যানেলে প্রবেশ করতে হবে। সেখান থেকে “YouTube Studio”-তে ক্লিক করে আপনার “Uploads”-বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপর আপনার কাঙ্ক্ষিত ভিডিওটি সিলেক্ট করে আপলোড করতে পারবেন।

মনে রাখবেন ইউটিউব ভিডিও আপলোড করার সময় বিভিন্ন অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে ভালো করে সেটিং গুলো করে নিতে পারলে আপনার ভিডিও র‍্যাংক হওয়ার অনেকটা সুযোগ থাকবে। যেমন থামবনাইল, টাইটেল, ট্যাগস ইত্যাদি। স্টেপ বাই স্টেপ বিস্তারিত ভাবে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার উপায় জানতে এখানে ক্লিক করুন

ইউটিউব ভিডিও এসইও করার উপায় :

অনলাইনে ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য ভিডিও সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন। সর্বপ্রথম আপনার ভিডিও বানাবেন টপিক নির্ধারন করে। এরপর ভিডিও সুন্দর করে এডিট করতে হবে। ভিডিও যখন আপলোড করবেন সুন্দর আকর্ষনিয় একটি থামবনাইল দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আর অ্যাট্রাক্টিভ একটি টাইটেল দিবেন যেটা পড়া মাত্রই সবাই ভিডিওটি দেখবে।

ইউটিউব ভিডিও এসইও করতে হলে আপনাকে এসইও সম্পর্কে কিছু জেনে নিতে হবে। এসইও কি? কিভাবে কাজ করে? এসইও কিভাবে করতে হয়? ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আমার এই আর্টিকেলটি পড়ুন

আপনার ইউটিউব ভিডিও এসইও করার জন্য ইন্টারনেটে একটি এক্সটেনশন রয়েছে যেটা দ্বারা আপনার ভিডিও সম্পূর্ণ অপটিমাইজেশন করতে পারবেন। সেই এক্সটেনশনটি হলো “TubeBuddy“। এটা দিয়ে আপনার ইউটিউব ভিডিও এসইও করা খুবই সহজ হয়ে যাবে।

এই এক্সটেনশনটির কাজ হলো বিভিন্ন ভিডিওর ট্যাগগুলো প্রদর্শন করা। কোনো ভিডিও র‍্যাংক হওয়ার পেছনে কোন কোন জিনিসগুলোর হাত রয়েছে সেটা “TubeBuddy”-দ্বারা বুঝে নিতে পারবেন। আর তাদের মতো করে আপনার ভিডিও এসইও করতে পারবেন। ফলে আপনার চ্যানেলের ভিডিও র‍্যাংক হবে।

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় :

আপনি অনেক ভাবেই ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। তবে সবথেকে ভালো মাধ্যম যেটা সেটা হলো “Google Adsense”। বর্তমানে অনলাইনে আরিং করার জনপ্রিয় উপায় হলো গুগল এডসেন্স। যেটার মাধ্যমে আপনার ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যে বিজ্ঞাপন শো করবে আর সেই বিজ্ঞাপন থেকে আপনার আর্নিং আসবে।

একজন ইউটিউবার হিসেবে কয়টি উপায় ইউটিউব থেকে আয় (Earnings from YouTube)-করতে পারবেন সেটা জেনে নেওয়ার আপনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চলুন জেনে নেই সেরা ৪টি পদ্ধতিতে কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়।

১। গুগল এডসেন্স (Google Adsense)

ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব থেকে আয়ের একটা বড় অংশ আসে গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে। এই এডসেন্স নেটওয়ার্কের কাজ হলো বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন নিয়ে পাবলিশারদের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকের কাছে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা। ফলে এডসেন্স প্রোগ্রাম বেশি অর্ধেক টাকা রেখে দিয়ে বাকি অংশ পাবলিসারদের দিয়ে দেয়।

এখানে পবলিসার হলো যারা গুগল এডসেন্স থেকে ইউটিউব বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাকা ইনকাম (Money income)-করে থাকে। আপনি যদি ইউটিউবের মাধ্যমে গুগল এডসেন্স দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে টাকা আয় করে থাকেন তাহলে আপনিও একজন পাবলিশার।

ইউটিউবের বিধী নিষেধ অনুযায়ী ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচটাইম ও ১০০০ সাবস্ক্রাইবার বানাতে পারলে আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। তা না হলে অন্য মাধ্যমে আয় করতে হবে। এভাবেই আপনি ইউটিউব চ্যানেলের মনিটাইজেশন অন করতে পারবেন

২। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)

অনলাইনে আর্নিং করার জন্য যে উপায়গুলো আপনি এই পর্যন্ত দেখেছেন তার মধ্যে হয়তো এফিলিয়েট মার্কেটিং এর নাম শুনেছেন। কোনো এফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে অ্যাফিলিয়েট লিংক সংগ্রহ করে তাদের প্রোডাক্ট বিক্রয় করে দিতে পারলে কমিশন পাবেন। আর এভাবেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা যায়।

ইউটিউব থেকে আয় করার মজার ব্যাপার হলো বেশ কতগুলো মাধ্যম একসাথে ব্যবহার করে আয় করতে পারবেন। যেমন- গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন শো করেও আয় করতে পারবেন অন্যদিকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আয় করা যাবে। বিষয়টা খুবই মজার।

আপনার এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক থেকে কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে পারেন। আর সেই ভিডিওর ডেস্ক্রিপশনে অ্যাফিলিয়েট লিংক দিয়ে দিবেন ফলে মানুষ সেই লিংক থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যত পণ্য ক্রয় করবে তত পরিমাণ আয় আসতে থাকবে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে এখানে ক্লিক করুন

৩। প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ (Premium membership)

আপনি যখন ইউটিউব ভিডিও আপলোড করে সবার কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে যাবেন আর আপনার অনেক ফ্যান হয়ে যাবে তখন প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ চালু করতে পারেন। অর্থাৎ আপনি এমন কিছু ভিডিও বানাবেন যেগুলো প্রিমিয়াম মেম্বাররা দেখতে পারবে। অর্থাৎ ভিডিও বিক্রি করে আয় করতে পারবেন।

অনেকেই এখন ইউটিউবে জনপ্রিয়তা লাভ করে প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ করে নেয়। ইউটিউবার বিভিন্ন ধরণের ডিভিডি বা প্যাকেজ বিক্রয় করার মাধ্যমে ইনকাম করে থাকে। মনে করেন আপনার চ্যানেল আইটি রিলেটেড আর অনেক সাবস্ক্রাইবার বানিয়েছেন। এখন আপনি চাইলে বিভিন্ন কোর্স বানিয়ে আপনার ফ্যানদের কাছে বিক্রয় করতে পারবেন।

৪। স্পন্সরশীপ এর মাধ্যমে আয় (Earnings through sponsorship)

আপনার ইউটিউব চ্যানেল যখন অনেক জনপ্রিয়া হয়ে যাবে তখন অনেক ব্যাক্তিবর্গ বা কোম্পানিদের নজরে চলে আসবে। যে ব্যাক্তিবর্গ বা কোম্পানি অনলাইনে তাদের প্রোডাক্ট স্পন্সর করতে চায় তাঁরা অনেকই আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। আর তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কমিশনের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

স্পন্সরদাতাদের কাছ থেকে যে পণ্য আপনাকে দেওয়া হবে সেগুলো ভিডিওর মাধ্যে একটু রিভিউ করে দিবেন। আপনি অনেক ভিডিও দেখবেন যে ভিডিওর মাঝে ইউটিউবার একটু অন্য টপিক নিয়ে কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে আলোচনা করে। আর এটা তাঁরা করে থাকে মূলত স্পন্সরশিপের কারনে। তাঁরা স্পন্সর করে টাকা ইনকাম করে থাকে।

ইউটিউব থেকে কত টাকা আয় করা যায়?

কোনো একজন ব্যাক্তি যদি ইউটিউব থেকে আয় করতে চায় তাহলে তার মাথায় অবশ্যই এই প্রশ্নটি আসে “ইউটিউব থেকে কত টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারব”। আসলে ইউটিউব থেকে কেউ আয় করে হাজার টাকা আবার কেউ আয় করে লক্ষ কোটি টাকা। মূলত কথা ইউটিউবে আপনার জনপ্রিতা বাড়াতে হবে। নিজের প্রতিভাগুলো শেয়ার করে সবাইকে খুশি করতে হবে।

আপনি ইউটিউবে আয়ের পরিমাণ জানলে অবাক হবেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “রায়ান কাজি” নামের এক শিশু যার বয়স ৬ এর একটু বেশি, তিনি শুধুমাত্র খেলনা দিয়ে খেলা ভিডিও বানিয়ে আয় করেছেন প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা। কি অবাক লাগছে? হ্যাঁ এটাও সম্ভব ইউটিউবে। ঘরে বসেই যদি এতো টাকা কামানো যায় তাহলে আর চাকরি করার কি দরকার। তাই এখনই ইউটিউব থেকে আয় করা শুরু করুন।

ইউটিউবে কত ভিউতে কত টাকা দেয়?

আসলে ইউটিউব থেকে আয় (Earnings from YouTube)-করার আগে সবার মাথায় কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খায় যেমন- ইউটিউব কিভাবে টাকা দেয়? ১ ভিউ কত টাকা? কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করব? ইত্যাদি। কিন্তু আমি আজকে আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

আমি আগেই বলেছি ইউটিউব নিজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করে এবং পাবলিসারদেরও বিজ্ঞাপনের জন্য টাকা দেওয়া হয়। আপনার ইউটিউব ভিডিওতে যদি ৫,০০০ ভিউ হয় কিন্তু একবারও অ্যাড শো করেনি তাহলে আপনার ১ টাকাও ইনকাম হবে না। আপনার ভিডিওতে যত বিজ্ঞাপন দেখাবে ও ক্লিক পরবে আপনার ইনকাম ততটাই বেশি হবে। আশা করি বুঝেছেন।

ইউটিউব থেকে টাকা তোলার উপায় :

আপনি যখন ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য মনিটাইজেশন করবেন তখন গুগল এডসেন্সের সাথে আপনার ইনকাম সোর্স জড়িত থাকবে। ইউটিউব থেকে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে যত টাকা আয় করবেন সেটা সম্পূর্ণই গুগল এডসেন্সে চলে যাবে। আর সেখান থেকেই আপনার টাকা উত্তোলন করতে হবে।

সুতরাং গুগল এডসেন্স থেকে টাকা তোলার জন্য আপনার একটি ব্যাংক একাউন্টের দরকার হবে। যখন এডসেন্সের সাথে ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করবেন তখন সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য দিতে হবে। কারণ প্রথমবার যখন এডসেন্স থেকে টাকা তোলার জন্য এপ্লাই করবেন তখন আপনার ইউনিয়ন পরিষদে গুগল থেকে একটি চিঠি যাবে। আর সেটার মধ্যে পিনকোড দেওয়া থাকবে যেটা দিয়ে আপনার এপ্লাই কনফার্ম করতে হবে।

আপনি যদি চিঠিটি সংগ্রহ করতে না পারেন তাহলে আপনি এডসেন্স থেকে টাকা উঠাতে পারবেন না। পরবর্তিতে আপনার আর চিঠি যাবে না ব্যাংক একাউন্টে চাইলে অটোম্যাটিক টাকা চলে যাওয়ার সিস্টেম করে নিতা পারবেন। আর এভাবেই ইউটিউব থেকে তুলতে পারবেন।

উপসংহার

আজকে আমি ইউটিউব থেকে আয় করার বিস্তারিত উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। কোনো বিষয় না বুঝতে পারলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ইউটিউব থেকে ইনকাম করা সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে আমাদের জানাতে পারেন। ধন্যবাদ!

Leave a Comment