আমাজন-থেকে-আয়

আমাজন কি? কিভাবে আমাজন থেকে আয় করবেন?

আমাজন সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট। অনলাইনে কেনাকাটা করার জন্যই আমাজন (Amazon)-ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমাসে আমাজন লক্ষ কোটি টাকা ইনকাম করে থাকে। আমাজন থেকে আয় করতে পারবেন আপনিও। অ্যামাজন যেমন নিজে টাকা আয় করে থাকে তেমনই অন্যান্যদের আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। আমাজন শুধু অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করেই এতো বড় কোম্পানি হয়নি তাদের রয়েছে আরো বিভিন্ন ধরণের সার্ভিস।

আমাজন বর্তমানে অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিস ও আধুনিক ডিভাইস উৎপাদনকারী হিসাবে বেশ শোনাম অর্জন করেছে। আমাজন প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকা দেশে থাকা সত্ত্বেও তাঁরা বিভিন্ন দেশে পণ্য বেচাকেনা করছে। কিভাবে তাঁরা বিভিন্ন দেশে পণ্য বিক্রয় করে সফলতা অর্জন করছে? তাঁরা মূলত ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নানা ভাবে কাজ করে চলেছে।

তাদের ওয়্যারহাউজগুলো উন্নত মানের দেশগুলোতে বেশ জায়গা করে নিয়েছে। কানাডা, স্পেন, জার্মানি, মেক্সিকো, ওশেনিয়া ও ইন্ডিয়ার মতো দেশগুলোতে তাঁরা বেশ সফলতার সাথে বিজনেস পরিচালনা করছে। বিশ্ব বাজারে নতুন প্রযুক্তিগত পণ্যগুলো অ্যামাজন ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।

বিভিন্ন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো পণ্য তৈরি করলে আমাজন ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে বিক্রয় বাড়িয়ে নেয়। এছাড়া তাদের কাছে আরো নানা ধরণের পণ্য পাওয়া যায় যেগুলো অন্যান্য ই-কমার্স ওয়েবসাইটে নেই।

বিভিন্নদেশে অ্যামাজন কোম্পানি ছড়িয়ে পড়ার কারনে তাঁরা বাড়তি সুযোগ-সুবিধা তৈরি করছে সাধারণ জনগণের জন্য। মানুষ যাতে তাদের পণ্যগুলো মার্কেটিং করার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারে সেই সুবিধা দেওয়ার কারনে আমাজন বেশ নাম করে নিয়েছে। বর্তমানে আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করছে হাজার হাজার মানুষ।

আমাজন কি (What is Amazon)?

অ্যামাজন একটি ইলেকট্রনিক ই-কমার্স কোম্পানি। অ্যামেরিকার সবচেয়ে বড় অনলাইন ভিত্তিক ইলেকট্রনিক বাণিজ্য কোম্পানি হলো আমাজন। ১৯৯৪ সালে জাফ বেজোস “আমাজন” প্রতিষ্ঠা করেন শুধুমাত্র বই বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে। কিন্তু খুব দ্রুত অনলাইনের মাধ্যমে বই বিক্রয়ের ব্যাপক সারা পাওয়ায় তিনি আরো বিভিন্ন ধরণের প্রোডাক্ট বিক্রয় করা শুরু করেন।

what-is-amazon

ধীরে ধীরে আমাজন সফলতার দিকে ছুটতে থাকে এক সময় আমাজন (Amazon)- সারা বিশ্বের মধ্যে নাম করা একটি অনলাইন বাণিজ্য কোম্পানি হয়ে যায়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তাদের ওয়্যারহাউজ বসিয়ে খুচরা ওয়েবসাইট তৈরি করেন। ফলে আমাজন বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে ও আরো বড় হতে থাকে।

আমাজন থেকে আয় করবেন কিভাবে (How to earn from amazon)?

how-to-earn-from-amazon

অ্যামাজন থেকে আয় করার ৪টি উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আপনি যদি আমাজন থেকে আয় করতে চান তাহলে এই চারটি সহজ উপায় আপনাকে অনেক কাজে দিবে। আমাজন সবার জন্য আয়ের পথ খুলে দিয়েছে। চাইলে আপনিও আমাজন থেকে পণ্য বিক্রয় করে সফলা অর্জন করতে পারেন। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।

১। আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অনলাইনে যারা মার্কেটিং করে আয় করছে তাদের সবার পছন্দ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। কোনো পণ্য মার্কেটিং এর মধ্যমে বিক্রয় করে দেওয়াই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। যারা মার্কেটিং করে পণ্য বিক্রয় করে দিতে পারে তাদের জন্য অর্থের ব্যবস্থা। প্রতিবার বিক্রয়ের জন্য আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণে কমিশন পাবেন।

আমাজন-এফিলিয়েট-মার্কেটিং-কি

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক মার্কেটপ্লেস হচ্ছে আমাজন। শুধু আমাজন নয় আপনি চাইলে আরো অন্যান্য মার্কেট থেকেও অ্যাফিলিয়েট করতে পারেন। কিন্তু সব ধরণের মার্কেটপ্লেস অ্যাফিলিয়েট করার সুযোগ দেয় না। তাই আমাজন আপনার জন্য সুযোগ করে দিয়েছে। যার মাধ্যমে আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা। চলুন জেনে নেই কীভাবে আমাজন থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করবেন।

আমাজন ওয়েবসাইটে যেয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে একটি একাউন্ট খুলে নিবেন। লক্ষ লক্ষ পণ্যের মধ্যে যে পণ্যটি আপনার পছন্দ হয় সেটা সম্পর্কে নিজের ওয়েবসাইট রিভিউ লেখা শুরু করবেন। রিভিউর মধ্যে উক্ত পণ্যের ছবি ও সঠিক তথ্য দিতে হবে। প্রতিটি রিভিউর মধ্যে পণ্যটি কেনার জন্য আমাজন অ্যাফিলিয়েট লিংক বসিয়ে দিবেন।

ফলে আপনার ওয়েবসাইট থেকে যারা পণ্য কেনার জন্য অ্যাফিলিয়েট লিংকটিতে ক্লিক করবে এবং আমাজন সাইটে ভিজিট করে পণ্যটি কিনবে সেখান থেকে আপনি কমিশন পাবেন। আর এভাবেই আপনি আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

আরো পড়ুন-

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করার সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আপনার সাইট থেকে যারা পণ্য কেনার জন্য অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে আমাজনে চলে যাবে তখন সে পণ্য না কিনলেও কোনো সমস্যা নেই। যদি চার-পাঁচ ঘন্টা পড়েও কিনে তাহলে সেখান থেকেও আপনি কমিশন পাবেন। অর্থাৎ আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যত পণ্য কিনবে সেখান থেকে আপনি কমিশন পেতে থাকবেন।

২। ই-বুক শেয়ার করে আয়

অনেকের লেখালেখি করার বেশ ভালো অভ্যাস রয়েছে। মনের কথাগুলো প্রকাশ করার জন্য মানুষ নানা ধরণের মধ্যম ব্যবহার করে থাকে। কেউ ডায়েরিতে লিখে আবার কেউ ফেসুকে স্ট্যাটাস করে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আপনি লেখালেখি করে আমাজন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আমি আগেই বলেছি আমাজনের শুরুটা হয়েছিলো অনলাইনে বই বিক্রয়ের মাধ্যমে। তাই বই লেখকদের জন্য অ্যামাজন একটা ভালো সুযোগ করে দিয়েছে। আমাজনে আপনার লেখা বই পাবলিশ করে খুব সহজেই আয় রোজগার করতে পারবেন।

ই-বুক তৈরি করে আমাজনে পাবলিশ করার জন্য রয়েছে “কিন্ডল ডাইরেক্ট পাবলিশিং”। আপনার লেখা বই আমাজনে শেয়ার করে আয় করতে পারবেন মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা। ভালো মানের বই লিখতে পারলে সারা বিশ্বে আপনার জনপ্রিয়তা বাড়বে এবং আরো বেশি আয় করতে পারবেন।

৩। আমাজনে চাকরি করে আয় রোজগার

ভাবছেন আমাজনে চাকরি করার জন্য আমেরিকা যেতে হবে। কিন্তু আপনার এই ধারণাটি আমাজন সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণিত করবে। সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইটে জব করতে পারবেন আপনিও। আমাজন প্রায় ৬ লক্ষ মানুষের চাকরির সুযোগ করে দিয়েছে। এর মধ্যে সবাই আমাজনের হেডকোয়াটার ওয়াশিংটনে যেয়ে জব করে না।

অ্যামাজন-থেকে-আয়

বিভিন্ন ভাবে কর্মিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাজনের একজন ফুল-টাইম কর্মির বার্ষিক আয় প্রায় ত্রিল লক্ষ টাকারও বেশি। এখন আপনি হয়তো ভাবছেন কিভাবে আমাজন কোম্পানিতে চাকরি করা সম্ভব। এটার একটি সহজ উত্তর হচ্ছে আপনি ঘরে বসেই আমাজনে চাকরি করতে পারবেন।

Amazon.jobs-একটি ওয়েবসাইট যেখানে আমাজনে চাকরির সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে থাকে। এই সাইটে তাঁরা বিভিন্ন ধরণের চাকরির সার্কুলার দিয়ে থাকে চাইলে আপনি ঘরে বসেই চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। যে কাজের জন্য আপনি উপযুক্ত সেটাই এপ্লাই করার চেষ্টা করবেন।

প্রতিবছর আমাজন তাদের কোম্পানিতে চাকরির জন্য প্রায় ২০-৩০টি পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। তাদের দেওয়া বিজ্ঞাপনের সাথে আপনার দক্ষতা অর্জন করার সাথে মিলে গেলে চাকরির জন্য আবেদন করে রাখতে পারেন। আপনার আবেদনটি গ্রহণ করা হলে তাঁরা আপনাকে জানিয়ে দিবে।

৪। আমাজনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়

আপনার তৈরি করা কোনো পণ্যসামগ্রী আমাজনের মাধ্যমে বিক্রয় করে দিতে পারবেন খুব সহজেই। আমাজনের এই পদ্ধতিকে বলা হয় FBA PROGRAM-। যে পদ্ধতিতে সারা বিশ্বে পণ্যসামগ্রী বিক্রয় করা সম্ভব। এর জন্য আপনার তৈরি করা পণ্যগুলো আমাজনের ওয়্যারহাউজে সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

আমাজন-এফিলিয়েট-মার্কেটিং-এর-সুবিধা

যারা আপনার পণ্যগুলো কেনার জন্য অর্ডার করবে তাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য ওয়্যারহাউজ দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু এরজন্য ওয়্যারহাউজ একটি ফি নিয়ে থাকে। কিন্তু আপনি যদি এই ফি প্রদান করতে না চান তাহলে নিজের কাছে পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে রেখে দিবেন এবং পণ্যের অর্ডার আসলে ক্রেতার কাছে নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দিতে হবে।

আর এই পদ্ধতিকে বলা হয় FBA PROGRAM-বা-FULFILLED BY AMAZON-। সম্প্রতি বাংলাদেশে তৈরি করা ওয়ালটন পণ্যসামগ্রী সারা বিশ্বে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে আমাজনের সাথে চুক্তি করেছে।

উপসংহার

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট থেকে আয় করার জন্য এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি আমাজন থেকে আয় করতে চান তাহলে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। ব্লগটি পড়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন।

2 thoughts on “আমাজন কি? কিভাবে আমাজন থেকে আয় করবেন?”

Leave a Comment