অনলাইন-ব্যবসা

অনলাইন ব্যবসা কি? কিভাবে করবেন? [ ১০টি আইডিয়া ]

সারা বিশ্বব্যাপী অনলাইন ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরে বসেই মানুষ যেন পুরো পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়ে নিয়ে এসেছে। মানুষ বাড়িতে বসে যা প্রয়োজন মনে করছে তাই পাচ্ছে। অনলাইনে ব্যবসার জন্য মেধা ও আইডিয়া বেশ কাজে দিয়েছে। যারা অনলাইন ব্যবসা (online business)-করার জন্য সঠিক উপায় বেঁছে নিয়েছে তারাই এখন অনলাইন বাজারে রাজত্ব করছে।

ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে ঘরে বসে খাবার-দাবার থেকে শুরু মেকআপ ও জামাকাপড় সবকিছুই কেনাকাটা করা যাচ্ছে। ধারণা করা হয় সামনের দিনগুলোতে অনলাইনে কেনাকাটার সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

এক গবেষণায় জানা যায় পুরো পৃথিবীতে ওয়েবসাইটের সংখ্যা প্রায় ৯৬৬ মিলিয়নের বেশি এবং এর মধ্যে ই-কমার্স (Ecommerce)-সাইট রয়েছে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি। বাংলাদেশেও রয়েছে ই-কমার্স সাইট যেমন- দারাজ, আজকের ডিল ইত্যাদি।

চলুন জেনে নেই কিভাবে আপনিও অনলাইন বিজনেস শুরু করতে পারবেন। এছাড়া যারা অনলাইনে ব্যবসা করে সফলতা অর্জন করতে চান তাদের জন্য রয়েছে সেরা ১০টি ব্যবসার আইডিয়া (Idea)। আর হ্যাঁ অবশ্যই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়বেন।

অনলাইন ব্যবসা কি (What is online business)?

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে অনলাইনে যাবতীয় কার্যক্রমই হলো অনলাইন ব্যবসা। অর্থাৎ অনলাইন থেকে টাকা পয়সা আয় রোজগার করার জন্য যে সেবা বা পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় সেটাই হলো অনলাইন ব্যবসা (Online Business)।

অনলাইন-মার্কেটিং

বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি সভ্যতার কারনে অনলাইন বিজনেস জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পরিশ্রম কম বলে মানুষ অনলাইন ব্যবসায়কে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তাছাড়া অনলাইনে বিজনেস করে মানুষ বেশি লাভবান হচ্ছে।

অনলাইন বিজনেস মানে ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনা নয় বরং ওয়েবসাইট থেকে আয় করা, ইউটিউব থেকে আয় করা, ফ্রিল্যান্সিং করা ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে মানুষকে সেবা দেওয়া ইত্যাদি অনলাইন ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত।

কেন অনলাইন ব্যবসা করবেন (Why do business online)?

অনলাইনে ব্যবসা করার সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো বাহিরে না বেড় হয়ে ঘরে বসেই ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যায়। অনলাইন ব্যবসায় পরিশ্রম কম ও মুনফা বেশি। এছাড়া অল্প মূলধের মাধ্যমে একটি ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব।

অনলাইন-ব্যবসা-কিভাবে-করব

যেমন মনে করেন ” আপনি একটি নতুন ব্যবসা করার উদ্যোগ নিলেন এবং যেকোনো জায়গায় দোকানে মালপত্র সব উঠালেন। এখন আপনার পণ্যগুলো কেনার জন্য সঠিক মানুষ আসছে না বা বেচাকেনা খুবই কম। এখন আপনি কি করবেন? ব্যবসা করা বন্ধ করে দিবেন? ” না এখন আপনার করনীয় অনলাইনের মাধ্যমে সঠিক গ্রাহকদের কাছে পণ্যের প্রচার প্রচারণা করা। এর মাধ্যমে আপনার ব্যবসা লাভজনক হবে এবং অল্প বিনিয়োগে লাভবান হতে পারবেন।

এই প্রক্রিয়াটি এখন প্রায় ব্যবসায়ীরা করে থাকে। ব্যবসা করার জন্য একটি দোকান নিয়ে বসে পড়ে এবং অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করে থাকে। ফলে ব্যবসায় লাভ আসে কয়কগুণ বেশি। এমন কিছু ব্যবসায়ী রয়েছে যারা সম্পূর্ণই অনলাইনের উপর ভিত্তি করে টিকে আছে। আর এই ব্যবসায়কে স্মার্ট ব্যবসায় বলা যেতে পারে।

অনলাইন ও অফলাইন ব্যবসার পার্থক্য কি?

১। অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য কোনো বিনিয়োগ করার প্রয়োজন হয় না। বরং বাড়িতে বসে কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ব্যবসা করা সম্ভব।

অন্যদিকে অফলাইনে বিজনেস করার জন্য ভালো মানের মূলধনের প্রয়োজন হয় ও দোকানে পণ্য উঠাতে হয়। শুধু তাই নয় অনলাইনের তুলোনায় অফলাইনে কয়েকগুণ বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

২। অনলাইনে বিজনেস করার জন্য প্রায় ২৪ ঘন্টাই গ্রাহকদের সার্ভিস দেওয়া সম্ভব। কারণ এটা ঘরে বসে করা হয়। আর অফলাইনের ক্ষেত্রে বিষয়টা পুরোপুরি ভিন্ন। ঘরে বসে ব্যবসা করা যায় না এবং গ্রাহকদের সব সময় সার্ভিস দেওয়া যায় না। ফলে বিক্রয় কম হয় এবং লাভবান হওয়া কষ্টকর হয়ে যায়।

৩। অনলাইনে যারা বিজনেস করে থাকে তাঁরা ৪-৫ ঘন্টা কাজ করে সারা দিন আয়ের সুযোগ করে নেয়। কিন্তু অফলাইনে এটা করা সম্ভব হয় না। দোকান খুলা রেখে তাদের সারা দিন কাজ করতে হয়।

৪। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই পৃথিবীর যেকোনো মানুষের কাজ করে টাকা আয় করা যায়। এছাড়া কারো কোনো সার্ভিসের প্রয়োজন হলে ঘরে বসেই সার্ভিস প্রদান করা সম্ভব। অন্যদিকে অফলাইনে দোকান না খুলে কারো কাজ বা কোনো সার্ভিস দেওয়া যায় না। শুধু তাই নয় নির্দিষ্ট জায়গায় বেচাকেনা করতে হয়।

কিভাবে অনলাইন ব্যবসা শুরু করবেন (How to start online business)?

অনলাইন ব্যবসা শুরু করার প্রথম কাজটি হচ্ছে একটি কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন করা। আপনি এই একটি কম্পিউটার দিয়ে সারা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ব্যবসা করতে পারবেন।

অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ওয়েবসাইট। এরপর রয়েছে বিভিন্ন ধরণের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। আপনার যদি অফলাইনে কোনো ব্যবসা থাকে তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং করে বিক্রয় বারিয়ে নিতে পারবেন।

এছাড়া একটি ওয়েবসাইট খুলে আপনার পণ্যগুলো সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করতে পারেন। ফলে বিভিন্ন ভিজিটর এসে পণ্যগুলো কেনার প্রয়োজন মনে করলে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। আর যদি ই-কমার্স সাইট খুলেন তাহলে অনলাইনে মানুষ পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করবে এবং অর্ডার করা পণ্য বিভিন্ন ভাবে ডেলিভারি করে দিতে হবে।

এভাবে আপনি অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। শুধু তাই নয় যেকোনো ভাবে ফ্রিল্যান্সিং কাজ শিখে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করেই ঘরে বসে টাকা আয় করতে পারবেন।

আশা করি আপনি বুঝেছেন কীভাবে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে হয়। এখন আমি অনলাইন ব্যবসা নিয়ে ১০টি আইডিয়া শেয়ার করব যেগুলোর মাধ্যমে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন। এছাড়া যারা অনলাইনে আয় করতে চান তারাও এই আইডিয়াগুলো বেঁছে নিতে পারেন।

১। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অনলাইনে বিনা পুঁজিতে ব্যবসা করার এটাই একটি ভালো উপায়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)-করার জন্য কোনো পণ্য ক্রয় করতে হয় না। অন্য ই-কমার্স সাইটের পণ্য নিয়েই আপনি অনলাইনে ব্যবসা করতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্যগুলো বিভিন্ন ভাবে প্রচার-প্রচারনের মাধ্যমে বিক্রয় করে দেওয়া।

অনলাইন-ব্যবসার-নিয়ম

এটা শুধু অনলাইনের জন্য নয়, আপনি চাইলে অফলাইনের কোনো পণ্য মার্কেটিং করে বিক্রয় করে দিয়ে কমিশন নিয়ে নিতে পারেন। এটাও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর অনন্তর্ভুক্ত। যাদের ব্যবসা করার জন্য মূলধন নেই বা কোনো পণ্য নেই তাঁরা এই মার্কেটিং করে অনলাইনে বিজনেস করতে পারেন।

বর্তমানে এই মার্কেটিং বেশ সারা ফেলেছে সবার মাঝে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ওয়েবসাইট। নিজে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারেন খুব অল্প টাকার মধ্যে। বাংলাদেশে বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানি রয়েছে যারা অল্প টাকার মধ্যে হোস্টিং ও ডোমেইন বিক্রয় করে থাকে।

এখন আপনার ঠিক করতে হবে কি ধরণের পণ্য নিয়ে মার্কেটিং করতে চাচ্ছেন। অনলাইনে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট রয়েছে যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং করার সুযোগ করে দিয়েছে যেমন আমাজন (Amazon)।

আরো পড়ুন-

আপনি চাইলে আমাজন সাইটে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারেন। সেখান থেকে যে পণ্যগুলো মার্কেটিং করতে চান সেগুলো সম্পর্কে আপনার ওয়েবসাইটে বর্ণনা দিতে থাকুন অর্থাৎ লিখতে থাকুন।

অবশ্যই বর্ণনার মধ্যে পণ্যের ছবি দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আর পণ্য কেনার জন্য অ্যাফিলিয়েট লিংক দিতে হবে। ফলে যারা আপনার ওয়েবসাইট থেকে অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে আমাজনে যেয়ে পণ্য ক্রয় করবে বিনিময় সেখান থেকে আপনি একটি নির্দিষ্ট কমিশন পাবেন। আর এভাবেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

শুধু আমাজন নয়, সারা বিশ্বে অনেক ই-কমার্স সাইট রয়েছে যারা অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রদান করে থাকে। সুতরাং চাইলে সেই সাইটের মাধ্যমেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

২। নিজেই ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন

বর্তমানে ই-কমার্স সাইট তৈরি করে বিভিন্ন ভাবে অনলাইন ব্যবসা করা যায়। কেউ অন্যান্য ই-কমার্স সাইট থেকে পণ্য নিয়ে নিজের সাইটে প্রদর্শন করার মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা করে থাকে। আবার যারা কোনো মার্কেটে বা দোকানে পণ্য নিয়ে ব্যবসা করে তারাও ই-কমার্স সাইট বানিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রয় করে থাকে। এটাই মূলত ই-কমার্স সাইটের সুবিধা।

অনলাইনে-ব্যবসা-করার-উপায়

আপনি যদি কোনো দোকান নিয়ে ব্যবসা করতে চান তাহলে একটি ই-কমার্স সাইট তৈরি করে ফেলুন। কারণ ই-কমার্স সাইট আপনার বিক্রয়কে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিবে।

এছাড়া আপনার ই-কমার্স সাইটে ভিজিটর কম আসলে আপনার সাইটের পণ্য নিয়ে ফেসবুকে মার্কেটিং শুরু করে দিতে পারেন। ফেসবুকে এখন অনেক ব্যবসায়ী মার্কেটিং করে লাভবান হচ্ছে। এছাড়া কোনো বিশেষ দিনে নতুন পণ্য নিয়ে ফেসবুকে মার্কেটিং করবেন। এর মাধ্যমে আপনার বিক্রয় যেমন হবে তেমনই লাভবান হতে পারবেন।

৩। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য সবচেয়ে সহজ মার্কেটিং হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social media marketing)। যারা দোকানে পণ্য নিয়ে বসে আছেন কিন্তু সঠিক গ্রাহক পাচ্ছেন না তাদের জন্য অনলাইন ব্যবসা সবচেয়ে ভালো উপায়।

ফেসবুকে-অনলাইন-ব্যবসা

অনেকে অনলাইন ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় ফলে অনলাইন বিজনেস করতে ভয় পায়। এছাড়া অনেকে ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানে না বা ভালো বুঝে না তারাও অনলাইন ব্যবসা করতে চায় না।

অন্যদিকে অনেকেই মনে করে সোশ্যাল মিডিয়া মানে ফেসবুক। কিন্তু সারা বিশ্বের আরো অনেক সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে যেগুলো অনেক জনপ্রিয় যেমন- টুইটার,গুগল প্লাস,ইনস্টাগ্রাম,পিন্টারেস্ট ইত্যাদি। আপনি চাইলে যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং করতে পারবেন।

তাই যারা কোনো ওয়েবসাইট না খুলে অনলাইন ব্যবসা করতে চান তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ে সবচেয়ে বেস্ট। যখন মার্কেটিং করার জন্য স্পন্সর করবেন তখন পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে রাখবেন এবং আপনার সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ করে দিবেন। আর এভাবে আপনি কোনো ওয়েবসাইট না খুলে অনলাইনে মার্কেটিং করতে পারবেন।

৪। ব্লগিং ও ইউটিউবিং

অনলাইন থেকে ইনকাম করার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হয়ে উঠেছে ব্লগিং ও ইউটিউবিং। যাদের কাছে একটি স্মার্ট ফোন বা ল্যাপটপ আছে তাঁরা বেশিরভাগই অনলাইন ইনকাম করার জন্য এ দুটি পথ বেঁছে নেয়। অনলাইনে লেখালেখি করতে যারা ভালবাসে তাঁরা ব্লগিং করে থাকে। অন্যদিকে যারা ভিডিও তৈরি করতে ভালবাসেন বা নিজের দক্ষতাগুলো সবার মাঝে শেয়ার করতে চান তাদের জন্য রয়েছে ইউটিউব (Youtube)।

ব্লগিং-ও-ইউটিউবিং-করে-আয়

ব্লগিং ও ইউটিউবিং হচ্ছে সবচেয়ে সহজ ভাবে অনলাইনে আয় করার উপায়। আর দুটি পদ্ধতিতে আয় করার জন সবাই গুগল এডসেন্স একাউন্ট তৈরি করে থাকে। ব্লগিং (Blogging)-করার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে যেখানে আপনি কনটেন্ট শেয়ার করতে পারবেন। আর গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় রোজগার করতে পারবেন।

অন্যদিকে ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য একটি জি-মেইল একাউন্ট তৈরি করে ইউটিউবে চ্যানেল খুলতে হবে। প্রতিনিয়ত ভিডিও আপলোড করার পর ভালো সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ পেলে গুগল এডসেন্স এর মধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

আর এ দুটি পথ থেকে আপনি আরো বিভিন্ন ভাবে আয় করতে পারবেন। আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন, কেউ আপনার সাইটে আলাদা ভাবে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে সেটার মাধ্যমেও আয় রোজগার করতে পারবেন। সুতরাং এভাবে আপনি ইউটিউব ও ব্লগ সাইট এর মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

৫। সিপিএ মার্কেটিং

অনলাইন ব্যবসা করার জন্য সিপিএ মার্কেটিং অন্যতম। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মতো সিপিএ মার্কেটিং এ কোনো পণ্য বিক্রয় করে দিতে হয় না। এর জন্য বর্তমানে এই মার্কেটিং বেশ সারা ফেলেছে সবার মাঝে। সিপিএ মার্কেটিং (CPA Marketing)-হলো “কস্ট পার অ্যাকশন” যা কোনো কাজ সম্পন্ন করা হলে বিনিময় অর্থ প্রদান করা হয়।

ডিজিটাল-মার্কেটিং-করে-আয়

আপনি যদি সিপিএ মার্কেট থেকে পণ্য নিয়ে অনলাইনে মার্কেটিং শুরু করেন তাহলে কোনো পণ্য বিক্রয় করতে হবে না। শুধু মাত্র অ্যাকন সম্পন্ন করতে পারলেই টাকা পাবেন। বিভিন্ন ধরণের সিপিএ মার্কেটিং রয়েছে যেমন- ইমেইল সাবমিট, কোনো ফর্ম পূরণ করা ইত্যাদি।

উদাহরণস্বরূপ : ” আপনি সিপিএ মার্কেট থেকে পণ্য নিয়ে মার্কেটিং করার জন্য একটি একাউন্ট তৈরি করলেন। এখন মার্কেটিং করার জন্য ইমেইল সাবমিট কাজটি নিলেন। সেখানে যিনি কাজটি দিবে তিনি কিছু নীতি বলে দিবে যেমন- এই পণ্যটি সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং করা যাবে না, কারো কাছ থেকে ইচ্ছাপূর্বক ইমেইল সাবমিট করা যাবে না ইত্যাদি। তাঁরা বলছে শুধু ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মার্কেটিংটি করতে পারবেন আর প্রতি ইমেইল সাবমিটের জন্য ২ ডলার করে দেওয়া হবে।

এখন আপনি যদি এই কাজটি নিয়ে মার্কেটিং করতে চান তাহলে ওয়েবসাইটের মধ্যে সিপিএ লিংক বসায় দিবেন এবং যারা সেই লিংকে ক্লিক করে ইমেইল সাবমিট করবে তাদের মাধ্যমে আপনি ডলার ইনকাম করতে পারেন। এর এভাবেই মূলত সিপিএ মার্কেটিং করতে হয়। আশা করি আপনি সিপিএ মার্কেটিং বুঝতে পেরেছেন। ”

৬। ডোমেইন ও হোস্টিং ব্যবসা

বর্তমানে মানুষ ওয়েবসাইট দিয়ে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। আর এরজন্য প্রতিদিন হাজার হাজার ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি কোম্পানি তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে প্রচার করার জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকে।

ডোমেইন-ও-হোস্টিং-ব্যবসা

আর ওয়েবসাইট তৈরি করা মানেই ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করা। অর্থাৎ ডোমেইন ও হোস্টিং ছাড়া ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় না। তাই আপনি অনলাইনে ডোমেইন ও হোস্টিং বিক্রয় করে ব্যবসা করতে পারেন।

বাংলাদেশে অনেক হোস্টিং ব্যবসায়ী রয়েছে যারা স্বল্প মূল্যে ডোমেইন ও হোস্টিং বিক্রয় করে থাকে। আপনি চাইলে কোনো হোস্টিং ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করে কম দামে হোস্টিং ক্রয় করে অনলাইনে বিক্রয় করতে পারেন। আর এই ব্যবসার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আপনি খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করে এই ব্যবসাটি করতে পারবেন। এটা অনলাইনের মধ্যে অন্যতম একটি লাভজনক ব্যবসা।

ডোমেইন ও হোস্টিং বিক্রয় করার জন্য গ্রাহক খুঁজে না পেলে অনলাইন মার্কেটিং (Online marketing)-করার মাধ্যমে গ্রাহক খুঁজে পেতে পারেন। যেমন- কোনো ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন অথবা সোশ্যাল মিডিয়াতে স্পন্সর করতে পারেন।

প্রথম দিকে যদি কম দামে হোস্টিং বিক্রয় করেন তাহলে ক্রেতা বেশি পাবেন। কোনো বিশেষ দিন উপলক্ষে অফার দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার হোস্টিং কোম্পানি (Hosting company)-সবার কাছে আকর্ষনীয় মনে হবে। সুতরাং ডোমেইন ও হোস্টিং বিক্রয় করার মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

৭। অনলাইন ক্লাস

আপনি হয়তো অনলাইন ক্লাস শোনে চিন্তা পড়ে গেলেন। আধুনিক যুগে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে টিউশনি করার মাধ্যমে আয় রোজগার করা যায়। সুতরাং চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনি যদি কোনো বিষয়ের উপর ভালো জ্ঞান অর্জন করে থাকেন তাহলে অনলাইনে বিভিন্ন ভাবে শেয়ার করে ইনকাম করতে পারেন।

অনলাইন-ব্যবসার-আইডিয়া

শুধু টিউশনি নয় আপনি চাইলে ইউটিউবে কোনো শিক্ষামূলক ভিডিও আপলোড করে সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন। আর এর মাধ্যমে পেইড ভিডিও তৈরি করে বিক্রয় করতে পারেন।

বর্তমানে অনেকে ইউটিউবে প্রযুক্তি বিষয়ক ফ্রি ভিডিও আপলোড করে সবার কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আর এরপর ফ্রি ভিডিও না দিয়ে একটা প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ তৈরি করে যেখানে শুধুমাত্র যারা টাকা দিবে তারাই ভিডিও দেখতে পারবে।

অর্থাৎ পেইড ভিডিও তৈরি করে বিক্রয় করা শুরু করে। আর এই প্রিমিয়াম ভিডিও আপনি বিভিন্ন ভাবে বিক্রয় করতে পারেন। যেমন- ডিভিডি তৈরি, গুগল ড্রাইভ ও সিক্রেট গ্রুপ তৈরি করে ক্লাস নেওয়া ইত্যাদি।

এছাড়া আপনি আরো বিভিন্ন ভাবে অনলাইন ক্লাস নিয়ে টাকা পয়সা আয় করতে পারবনে। অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে প্রিমিয়াম ভিডিও পাওয়া যায়। আপনি চাইলে সেই ওয়েবসাইটগুলোতে রেজিস্ট্রেশন করে আপনার প্রিমিয়াম ভিডিওগুলো আপলোড করতে পারেন। যেমন- Udemy, Skillshare, Teachable, Academyofmine-ইত্যাদি।

৮। ওয়েবসাইটের থিম তৈরি

অনলাইন ব্যবসা করার জন্য ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (Web development)-শিখতে পারেন। বর্তমানে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব থিম ডেভেলপমেন্ট করে প্রচুর ইনকাম করা যায়। অনলাইনে অনেক নামকার মার্কেট রয়েছে যেখানে লক্ষ লক্ষ থিম পাওয়া যায়। আর সেই মার্কেটগুলোতে আপনিও থিম আপলোড করে বিক্রয় করতে পারবেন।

ওয়েব-ডেভেলপমেন্ট

আপনি যদি ভালো মানের একটি থিম তৈরি করে মার্কেটপ্লেসে সারা ফেলতে পারেন তাহলে আপনার লাইফ বদলে যাবে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় থিম মার্কেটপ্লেস হচ্ছে Envato

লক্ষ লক্ষ ওয়েব ডেভেলপাররা থিম তৈরি করে Envato-মার্কেটের মাধ্যমে বিক্রয় করে থাকে। একজন ওয়েব ডেভেলপারের অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যেকোনো ভাবে ওয়েব থিম ডেভেলপমেন্ট শিখে অনলাইনে থিম বিক্রয় করার মাধ্যমে বিজনেস শুরু করতে পারেন। এছাড়া থিম ডেভেলপারদের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটগুলোতে প্রচুর সারা পাওয়া যায়।

৯। অনলাইনে ফটো বিক্রি

খুব চমৎকার একটি অনলাইন ব্যবসা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যগুলো ক্যামেরা বন্ধি করে অনলাইনে বিক্রয় করে দিতে পারেন। শুধু তাই নয় আপনি যদি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনের হয়ে থাকেন তাহলে বিভিন্ন ছবি তৈরি করে অনলাইনে বিক্রয় করে দিতে পারেন।

অনলাইনে-ফটো-বিক্রি-করে-আয়

যারা বিভিন্ন কাজের জন্য ফটো বানাতে পারে না তাঁরা অনলাইন থেকে ক্রয় করে ব্যবহার করে থাকে। বিভিন্ন জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস (Marketplace)-রয়েছে যেখানে ফটো বিক্রয় করা হয়। যেমন- istockphoto, vectorstock, shutterstock-ইত্যাদি।

যারা ফটোশপ ও ইলাস্ট্রেটর-এর কাজ পারেন তাদের কাছে ফটো তৈরি করা কোনো কঠিন কাজ নয়। ভেক্টর ফাইলগুলো ফটো মার্কেপ্লেসগুলোতে অনেক দামি হয়ে থাকে।

এছাড়া যারা লোগো, ব্যানার ও বিজনেস কার্ড তৈরি করতে পারে তাঁরা ফটো মার্কেটপ্লেসগুলো থেকে ভালো মানের ইনকাম করতে পারবে। অন্যদিকে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটগুলোতে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

১০। ফ্রিল্যান্সিং

আপনি হয়তো ইন্টারনেটে এই কথাটি বহুবার শোনেছেন। ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইন ব্যবসা করার অনেক উপায় রয়েছে। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, আর্টিকেল রাইটিং ও ভিডিও গ্রাফিক্স ইত্যাদি ধরণের কাজ পাওয়া যায় ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing)-মার্কেটপ্লেসগুলোতে। যেকোনো একটি টপিকের উপর দক্ষতা অর্জন করে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দিতে পারেন। কারণ সব ধরণের কাজই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে চাহিদাসম্পন্ন।

ফ্রিল্যান্সিং-করে-আয়

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বিভিন্ন মার্কেট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন বায়ার/ক্লায়েন্ট আসে কাজ দেওয়ার জন্য। আপনি তাদের কাজ করে দেওয়ার মাধ্যমে টাকা ইনকাম (Money income)-করতে পারবেন।

বর্তমানে ঘরে বসে আয় করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো ফ্রিল্যান্সিং করা। জনপ্রিয় কিছু ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হলো Fiverr, Upwork, Freelancer, PeoplePerHour-ইত্যাদি। আপনি চাইলে কাজ শিখে এই মার্কেটগুলোতে জব করা শুরু করতে পারেন।

উপসংহার

আমি আজ অনলাইন ব্যবসা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও আইডিয়া শেয়ার করেছি। চাইলে আর্টিকেলটি পড়ে যেকোনো টপিকের উপর অনলাইন বিজনেস শুরু করে দিতে পারেন। অনলাইন ব্যবসা করার জন্য শুধু এই ১০টি আইডিয়া নয়, আপনি চাইলে আরো বিভিন্ন ভাবে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

Leave a Comment