অনলাইন জব করার উপায়

অনলাইন জব করার সেরা ১০টি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট

চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না? তাহলে কিভাবে টাকা ইনকাম করবেন? পড়ালেখার পাশাপাশি বা নিজের ক্যারিয়ার নিজের মতো করে তৈরি করার জন্য স্বাধীন ভাবে Job করতে চাই সাবাই। খুব সহজ উপায় অনলাইন জব করে মানুষ এখন অর্থ উপার্জন করছে। লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করার জন্য মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করছে। আপনিও চাইলে ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করতে পারেন বিভিন্ন পদ্ধতিতে। শুধু তাই নয় পার্ট টাইম অনলাইন জব করার জন্য মোবাইলে অনলাইনে আয় করছে বাংলাদেশী তরুণ তরুনীরা।

এখন বিভিন্ন সাইট থেকে অনলাইন জব অফার আসে কাজ করার জন্য। আর এই কাজগুলো আপনি ঘরে বসেই করতে পারেন, এর জন্য আপনাকে কোথাও যেতে হবে না।

ইন্টারনেটে অনেক অনলাইন ইনকাম সাইট রয়েছে যেখানে মানুষ একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে জব অফার নিয়ে কাজ করে দিচ্ছে। এর জন্য আপনার দরকার কিছু দক্ষ্যতা, কারণ কাজ যদি না জানেন তাহলে কাজ করবেন কিভাবে।

আপনি যদি এখন পড়ালেখা করে থাকেন অথবা বেকার সময় কাটাচ্ছেন তাহলে আপনি একটি আইটি সেন্টার থেকে কোনো বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে অনলাইন জব শুরু করে দিতে পারেন।

আরো পড়ুন-

প্রযুক্তি এখন সবার কাছে তাই কেউ চায় না এটাকে ব্যবহার না করতে। আপনি হয়তো ভাবছেন কিভাবে অনলাইন ইনকাম করা যায় জব করার মাধ্যমে। আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন তাহলে সব জানতে পারবেন।

বিভিন্ন ভাবে অনলাইনে আয় করা যায় এখন আপনি কোনটা বেঁছে নিবেন সেটা সম্পূর্ণই আপনার নিজের কাছে। ফ্রিল্যান্সিং, ইউটিউবিং, মার্কেটিং, ব্লগিং এবং আরো বিভিন্ন উপায় অনলাইন ইনকাম করা যায়।

এখন আপনি যে কাজটাই করতে চান সেটার উপর কিছু ধারণা থাকতে হবে। কোনো ধারণা না নিয়ে সরাসরি অনলাইনে আয় করার চেষ্টা করবেন না এতে আপনার অনেক সময় নষ্ট হবে।

হ্যাঁ আপনি যদি চান ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করে নিজের মতো ধারণা নিয়ে সরাসরি অনলাইন ইনকাম করবেন তাহলে করতে পারেন যদি আপনার কাছে বেশি সময় থাকে। আপনার যদি কোনো স্বপ্ন থাকে বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য তাহলে সময় নষ্ট না করে কাজে লেগে জান।

আপনার আশেপাশে কোনো আইটি সেন্টার না থাকলে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে লাইভ ক্লাস নিয়ে আইটি শিক্ষা দেওয়া হয়। মনে রাখবেন অনলাইন জব করার জন্য ধৈর্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।

কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর ধৈর্য না ধরে হাল ছেড়ে দিলে আপনি সফল হতে পারবেন না। প্রথম দিকে অনলাইন জব পাওয়াটা একটু কষ্টকর কিন্তু যখন ধীরে ধীরে কাজ পেতে থাকবেন তখন আপনি কাজ করে শেষ করতে পারবেন না, কাজের উপর কাজ আসতেই থাকবে।

আপনার যতটা সম্ভব চেষ্টা করে যাবেন, দেখবেন একদিন সফলতা আসবেই তখন আপনাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। যখন আপনি সফল হবেন দেখবেন বিভিন্ন মানুষ আপনার কাছ থেকে কাজ শেখার জন্য অনুরোধ করবে আর এটাই বাস্তবতা। তাহলে চলুন জেনে নেই কিভাবে অনলাইন জব করা যায়।

অনলাইন জব করে ফ্রিল্যান্সিং আয়

অনলাইন জব করার জন্য বর্তমানে মানুষ ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার তৈরি করছে। এটা শুধু বাংলাদেশী মানুষের জন্য নয় এটা সারা বিশ্বের মানুষ করতে পারবে এবং করেও থাকে। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে স্বাধীন বা মুক্ত পেশা যেটা সবাই পছন্দ করে।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনি বিভিন্ন বিষয়ের উপর দক্ষ্যতা অর্জন করতে পারেন যেমনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, এসইও, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি। এইসব কাজ গুলোর অনেক চাহিদা রয়েছে অনলাইন ইনকাম সাইট গুলোতে।

অনলাইন-ইনকাম-সাইট

আপনি যদি কোনো আইটি সেন্টার থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে না পারেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং শেখার বই ক্রয় করে নিতে পারেন। অথবা ইন্টারনেটে অনেক ফ্রি ফ্রিল্যান্সিং শেখার বই পাওয়া যায় সেগুলো ডাউনলোড করে নিতে পারেন এবং সেগুলো প্রিন্ট করেও নিতে পারেন। চলুন ফ্রিল্যান্সিং করার কিছু ওয়েবসাইট সম্পর্কে জেনে নেই।

১/ ফ্রিল্যান্সার ডট কম – Freelancer.Com

অনলাইন জব করার জন্য এই ওয়েবসাইট খুব জনপ্রিয়। আপনি সাইটে খুব সহজেই একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য। আপনি চাইলে একটি একাউন্ট দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং করতে পারেন।

আউটসোর্সিং হলো নিজের বা কোম্পানির কোনো কাজ অন্যের সাথে চুক্তির মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেওয়াকে বুঝায়। এইসব ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে চুক্তির মাধ্যমে কাজ করা হয়।

আপনার কাজ, সময়, অর্থ সবকিছুই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। এই সাইটে আপনার কাজের সার্ভিস পোষ্ট করতে হবে ক্লায়েন্ট জব অফার করবে আপনি সেটায় এপ্লাই করবেন। ক্লায়েন্ট যদি আপনার পোর্টফলিও দেখে পছন্দ করে তাহলে আপনি সেই কাজটি পাবেন।

প্রথম দিকে অনেক ক্লায়েন্ট আপনাকে দিয়ে কাজ করাতে চাইবে না কারণ আপনি তখন সম্পূর্ণ নতুন একজন ফ্রিল্যান্সার। কিন্তু যখন কোনো ক্লায়েন্ট আপনাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিবে তখন ধীরে ধীরে আপনার অ্যাকাউন্ট র‍্যাংক হতে থাকবে কাজও বেশি পাবেন।

সব সময় চেষ্টা করবেন ক্লায়েন্টকে খুশি করার জন্য, এতে ক্লায়েন্ট আপনার উপর খুশি হলে পরবর্তি কাজটি আপনাকে দিয়ে করাতে পারে।

প্রথম দিকে কোনো কাজ পেলে খুব সন্দর করে কাজটি করার চেষ্টা করবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাজ কমপ্লিট করে ক্লায়েন্টকে বুঝিয়ে দিবেন। এতে ক্লায়েন্ট আপনার উপর খুশি হবে ফলে আপনাকে ভালো ফিডব্যাক দিলে আপনাকে দিয়ে অন্যান্য ক্লায়েন্ট কাজ করার জন্য ইচ্ছুক হবে।

২/ ফাইভার ডটকম – Fiverr.Com

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য এটা জনপ্রিয় সেরা অনলাইন জব সাইট গুলোর একটি। এই সাইটে প্রবেশ করে আপনি একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে পারেন সম্পূর্ণ ফ্রি।

নিজের মতো করে একটি প্রোফাইল করবেন সেখানে কোনো ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনি এই সাইটে একটি আইপি দিয়ে একটা একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। যদি আপনি এক আইপি দিয়ে দুইটা একাউন্ট তৈরি করেন তাহলে যেকারণে সময় আপনার অ্যাকাউন্ট বাদ হয়ে যেতে পারে।

অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং জব সাইট গুলোর মতো এটার মধ্যে ক্লায়েন্ট জব পোস্ট করে না। আপনি যে কাজ গুলো শিখেছেন সেগুলো আপনাকেই পোস্ট করতে হবে। আর এটাকে বলা হয় গিগ, আপনি ফাইভারে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার করার পর ৫টি গিগ বা জব সার্ভিস তৈরি করতে পারবেন।

আপনি যদি সব সময় ফাইভারে অ্যাক্টিভ থাকেন তাহলে আপনার জব অফার আসতে থাকবে। সেখানে ক্লায়েন্টকে আপনার পোর্টফলিও আর জব সার্ভিস গুলো প্রদর্শন করতে হবে। ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে বিবেচনা করে পছন্দ করে তাহলে আপনাকে তারা কাজটি দিবে। মনে রাখবেন ক্লায়েন্টের সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে।

কিছু সময় ক্লায়েন্ট ভিডিও কথা বলতে পারে আবার কিছু সময় ই-মেইলে বা ফাইভারে চ্যাট করতে পারে। সেটা সম্পূর্ণই ক্লায়েন্টের উপর নির্ভর করে সে কখন কিভাবে কথা বলবে। অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং জব সাইট গুলো থেকে ফাইভারে দ্রুত কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফাইভারে যেকোনো কাজের সর্বনিম্ন রেট দিতে পারবেন ৫ ডলার বা তার উপরে।

৩/ আপওয়ার্ক ডটকম – Upwork.Com

অনলাইন জব করার জন্য বৃহত্তম একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের নাম আপওয়ার্ক ডটকম যেটা পূর্বে ছিল ওডেস্ক ডটকম। বিভিন্ন মানুষ এখানে পার্ট টাইম বা ফোল টাইম জব করে থাকে।

আপনার যদি কোনো কাজের উপর দক্ষ্যতা থাকে তাহলে এই সাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে প্রোফাইল তৈরি করে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করা শুরু করে দিতে পারেন। এই সাইটে বিভিন্ন বিষয়ের উপর কাজ করতে পারেন, ভালো কাজ জানলে আপনার কোনো সমস্যা হবে না।

ক্লায়েন্ট যেন আপনার কাজ দেখে মুগ্ধ হয় এবং আপনি জেন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে আরো কাজ পান সেভাবে কাজ করার চেষ্টা করবেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো হলো প্রতিযোগিতার বাজার, যেখানে মানুষ চায় ভালো কাজ করে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে।

আপওয়ার্ক ডটকম সাইটের মোবাইল অ্যাপ রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি অবশর সময় ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলতে পারবেন। অথবা কোনো কাজের অর্ডার আসলে সেটা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই জেনে নিতে পারবেন।

এই মার্কেটপ্লেসে বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সার দক্ষ্যতা অর্জন করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে থাকে। কারণ এই সাইটে নতুন অ্যাকাউন্ট যারা তৈরি করে তাদের কাজ পাওয়াটা একটু কষ্টকর হয়ে উঠে।

তাই যারা অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তারা এই সাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে কাজ পেয়ে যায় খুব সহজেই। এখন আপনি যদি মনে করেন এই সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে দ্রুত কাজ পাবেন তাহলে করতে পারেন কোনো সমস্যা নেই।

৪/ পিপল পার আওয়ার ডটকম – PeoplePerHour.Com

আপনি যদি এসইও, সফটওয়্যার, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে এই সাইটে আপনি ভাল সুবিধা পাবেন কাজ করার জন্য।

কারণ এই কাজ গুলোর চাহিদা এই সাইটে প্রচুর। আপনি যদি এছাড়াও আরো অন্যান্য কাজ শিখে থাকেন তাহলে সেটাও করতে পারবেন এই সাইটে। সম্পূর্ণ ফ্রি একটি একাউন্ট তৈরি করে নিজের সকল নির্ভুল তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করে কাজ করার অনুসন্ধানে লেগে জান।

আপনার জব পোস্ট করার পর বেশি সময় মার্কেটপ্লেসে এক্টিভ থাকার চেষ্টা করুন। কোনো ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে দিয়ে জব করার জন্য নক করে থাকে তাহলে জেন সাথে সাথে সাড়া দিতে পারেন। ক্লায়েন্ট যদি নক করে আপনাকে না পায় তাহলে অন্য কাউকে কাজটি দিয়ে দিতে পারে।

৫/ টেক্সট ব্রোকার ডটকম – TextBroker.Com

এই সাইটের নাম দেখেই বলা যায় “টেক্সট ব্রোকার ডটকম” কোন কাজ গুলো বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আপনি যদি লেখালেখা করা পছন্দ করেন তাহলে এই সাইটে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন।

এই সাইটে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে ফ্রিল্যান্সার লেখকদের। এই সাইটে আপনি ফ্রিতে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন এবং ভালো লেখা-লেখি করতে পারলে জব পেয়ে যাবেন খুব সহজেই।

প্রতি বছর লেখার মান নির্ধারণ করা হয়, যারা বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভালো লেখালেখি করতে পারে তাদের অ্যাকাউন্টের র‍্যাংক বাড়ে আর যারা খারাপ করে তাদেরটা কমে।

আপনি অ্যাকাউন্ট যদি র‍্যাংক হয় তাহলে আপনি কম প্রতিযোগিতার মধ্যে কাজ পাবেন বেশি। ক্লায়েন্টের সাথে আপনার ভালো সম্পর্কে তৈরি হয়ে গেলে তখন নিজেই নিজের কাজের মূল্য নির্ধারণ করতে পারবেন।

৬/ গুরু ডটকম – Guru.Com

এই মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সারদের কাছে খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই সাইটে আপনি জনপ্রিয় কাজ গুলো করতে পারবেন ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি। এই সাইটে ক্লায়েন্টরাও জব পোস্ট করতে পারে, এতে ফ্রিল্যান্সাররা কাজ খুঁজে আবেদন করতে পারে।

আপনি “গুরু ডটকম” সাইটে এমন ভাবে একটি প্রোফাইল তৈরি করবেন যেখানে আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সর্বনিন্ম ক্ষতিপূরণের প্রয়োজনীয়তা হাইলাইট করা থাকে।

এই সাইটে বেশিরভাগ জব সার্কুলার গুলোর ফিক্সড মূল্য দেওয়া থাকে। যদি বেশি বেশি কাজের অর্ডার পান এবং কাজ সঠিক সময় ক্লায়েন্টের কাছে প্রেরণ করেন তাহলে আপনার মেম্বারশিপ লেভেল বাড়তে থাকবে। এতে আপনি বেশি কাজের অর্ডার পাবেন ও আপনার প্রতিযোগিতা কম থাকবে।

৭/ ৯৯ ডিজাইনস ডটকম – 99Designs.Com

এই প্লাটফর্মটি সাধারণত তৈরি করা হয়েছে ডিজাইন ভিত্তিক কাজ নিয়ে। যারা বিভিন্ন ধরণের ডিজাইন পারে তারা এই সাইটে ফ্রিল্যান্সিং জব করে যেমনঃ লোগো ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইন, বিজনেস কার্ড, ওয়েব পেজ ডিজাইন আরো গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি।

প্রতিযোগিতার জেন কোনো শেষ নেই “৯৯ ডিজাইনস ডটকম” ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে। আপনি যে ডিজাইন গুলো সুন্দর ভাবে করতে পারবেন সেগুলো এই সাইটে প্রদর্শন করবেন। হাজার হাজার ডিজাইনার তাদের ডিজাইন জমা দেয় ৭দিন সময় ধরে। এর পরে ক্লায়েন্টরা তাদের পছন্দ মতো ডিজাইন নির্বাচন করে এবং ডিজাইনারকে সঠিক মূল্য প্রদান করে।

এই সাইটে ডিজাইন প্রতিযোগিতার প্যাকেজ রয়েছে যারা ইচ্ছুক তারা ডলার প্রদান করে যোগ দেয়। এতে ক্লায়েন্টরা যার ডিজাইন বেশি পছন্দ করে তাকে বিজয়ী করা হয় ফলে ডিজাইনার মোটা অংকের টাকা উপার্জন করে থাকে।

৮/ ক্রডস্প্রিং ডটকম – Crowdspring.Com

ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোর মধ্যে যে সাইট গুলো ডিজাইন ভিত্তিক হয়ে থাকে সেগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশি থাকে। অন্যান্য ডিজাইন সাইট গুলোর মতোই “ক্রডস্প্রিং ডটকম” ডিজাইন প্রতিযোগিতার একটি ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম।

এখানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, সৃজনশীল কপিরাইটার, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপারদের জব করার জন্য সুযোগ দিয়ে থাকে। এখানে আপনি ফ্রি একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন এবং আপনার কাজ গুলো সাইটে প্রতিযোগিতার জন্য ফ্রিতে জমা দিতে পারবেন।

আপনি যদি বিজয়ী হন আপনার পুরষ্কারের ৪০% রেখে দিবে “ক্রডস্প্রিং ডটকম” প্লাটফর্ম। এখানে ক্লায়েন্টরা প্রতিযোগিতার জন তাদের নিজের মতো করে পুরষ্কারের মূল্য নির্ধারন করতে পারবে।

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং জব করার জন্য আপনাকে বেশিরভাগ মার্কেট প্লাটফর্মে প্রতিযোগিতার সাথে কাজ করতে হবে। এটা আপনার জন্য ভালো কারণ নিজে নিজে সবার চেয়ে উন্নত হওয়ার চেষ্টা করবেন।

৯/ টপটাল ডটকম – Toptal.Com

ফ্রিল্যান্সিং আয় করার জন্য “টপটাল ডটকম” এক অন্যতম শীর্ষ ওয়েবসাইট। এই প্লাটফর্মটি সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য দুর্দান্ত এবং সাইটে টিকে থাকার জন্য আপনাকে কঠিন প্রতিযোগিতার মোকাবেলা করতে হবে।

মাত্র শীর্ষস্থানীয় ৩% ডেভেলপারদের গ্রহণ করে থাকে মার্কেটটিতে তাই ওয়েবসাইটটি অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং সাইট এর মতো সহজ নয়। যারা অভিজ্ঞ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মোকাবেলা করতে পারে তারাই সাইটে ফ্রিল্যান্সিং আয় করতে পারে।

এই সাইটের বেশিরভাগ Freelancer খুব মেধাবী এবং ভালো কাজ করতে পারে। এর জন্য এই সাইটের ফ্রিল্যান্সারদের পারিশ্রমিক বেশি দেওয়া হয় অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে।

এই সাইটে বেশিরভাগ কাজ গুলো বিভিন্ন কোডিং এর মাধ্যমে করতে হয়। যারা কোডিং ভালো জানে তারা এই সাইটে বিভিন্ন কাজ করে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে।

১০/ ডিজাইন ক্রাউড ডটকম – DesignCrowd.Com

৯৯ ডিজাইনস মার্কেটপ্লেসের মতোই “ডিজাইনক্রাউড ডটকম” ডিজাইন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। ডিজাইনারদের জন্য এই মার্কেটপ্লেস গুলো খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

যখন কোনো ডিজাইনার তার ডিজাইন মার্কেটে পোষ্ট করবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সর্বনিন্ম ডিজাইন মূল্য ৩০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে ততক্ষণ এই প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। যারা ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইন বা টি-শার্ট ডিজাইন করতে পারে তাদের জন্য আলাদা ভাবেও প্রতিযোগিতার অপশন রয়েছে।

কয়েকবার আপনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলে পরবর্তীতে ক্লায়েন্টরা তাদের প্রতিযোগিতায় আপনাকে আমন্ত্রণ করতে পারে। আপনি এই সাইটে ফ্রি একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন এবং উচ্চমানের কোনো প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে আপনাকে অর্থ প্রদান করা লাগতে পারে। যারা ডিজাইনার তারা অনেক মেধা দিয়ে কাজ করে এবং এর জন্য তারা ভালো অংকের টাকা ইনকাম করতে পারে।

3 thoughts on “অনলাইন জব করার সেরা ১০টি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট”

Leave a Comment